ঢাকা ০১:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৬৫ হাজার শিক্ষকের অবসরের টাকার নতুন উদ্যোগ শিক্ষামন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৬:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / 16

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন

দেশের বেসরকারি শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া ও ঝুলে থাকা অবসর সুবিধা দ্রুত পরিশোধের লক্ষ্যে একটি নতুন ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ৬৫ হাজার শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পরও তাঁদের প্রাপ্য সুবিধার অর্থ এখনও বুঝে পাননি। শিক্ষকদের এই দীর্ঘদিনের কষ্ট ও মানবিক সমস্যা দূর করতে বর্তমান সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আগামী জুলাই মাস থেকে প্রত্যেক শিক্ষককে ন্যূনতম এক লাখ টাকা করে বকেয়া অর্থ পরিশোধের কাজ শুরু করা হবে।

গতকাল শনিবার (১৩ জুন) বিকেলের দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকার ঐতিহাসিক পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবনির্মিত চারতলা ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে বলেন, শিক্ষকদের সব ধরনের বকেয়া পাওনা পর্যায়ক্রমে সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হবে। এই বিশাল কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে একটি বিশেষ ‘থোক বরাদ্দ’ পাওয়া গেছে এবং এই বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়েই প্রথম পর্যায়ের পেমেন্ট কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শিক্ষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে শিক্ষকদের মূল বেতনের ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা (বোনাস) হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। তবে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে এই উৎসব ভাতাকে শতভাগে (১০০%) উন্নীত করার একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। চলতি মেয়াদের জাতীয় বাজেট চূড়ান্তভাবে অনুমোদনের পর ধাপে ধাপে এই সিদ্ধান্তটি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান প্রধান শিক্ষকের তীব্র সংকটের কথা অকপটে স্বীকার করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, সারাদেশে একযোগে প্রায়৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মহামান্য আদালতের একটি আকস্মিক স্থগিতাদেশের কারণে এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়াটি মাঝপথে আটকে রয়েছে। আইনি এই জটিলতাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কাজ করছে।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা প্রশাসনের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে বলেন, বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নিয়োগের বিরুদ্ধে দেশের উচ্চ ও নিম্ন আদালতে প্রায় ৮৩ হাজার ৫০০টি মামলা বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। এই বিশাল মামলা জট দ্রুত নিরসন করার জন্য সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল এবং আইনমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

মন্ত্রী গভীর আশা প্রকাশ করে বলেন, আদালতে ঝুলে থাকা এসব জটিল মামলার অবসান ঘটানো সম্ভব হলে শিক্ষা খাতের সব ধরনের নতুন নিয়োগ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম আগের চেয়ে অনেক বেশি গতিশীল ও দ্রুত অগ্রসর হবে। এর ফলে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবিগুলো খুব সহজেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

৬৫ হাজার শিক্ষকের অবসরের টাকার নতুন উদ্যোগ শিক্ষামন্ত্রীর

সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৬:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

দেশের বেসরকারি শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া ও ঝুলে থাকা অবসর সুবিধা দ্রুত পরিশোধের লক্ষ্যে একটি নতুন ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ৬৫ হাজার শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পরও তাঁদের প্রাপ্য সুবিধার অর্থ এখনও বুঝে পাননি। শিক্ষকদের এই দীর্ঘদিনের কষ্ট ও মানবিক সমস্যা দূর করতে বর্তমান সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আগামী জুলাই মাস থেকে প্রত্যেক শিক্ষককে ন্যূনতম এক লাখ টাকা করে বকেয়া অর্থ পরিশোধের কাজ শুরু করা হবে।

গতকাল শনিবার (১৩ জুন) বিকেলের দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকার ঐতিহাসিক পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবনির্মিত চারতলা ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে বলেন, শিক্ষকদের সব ধরনের বকেয়া পাওনা পর্যায়ক্রমে সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হবে। এই বিশাল কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে একটি বিশেষ ‘থোক বরাদ্দ’ পাওয়া গেছে এবং এই বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়েই প্রথম পর্যায়ের পেমেন্ট কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শিক্ষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে শিক্ষকদের মূল বেতনের ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা (বোনাস) হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। তবে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে এই উৎসব ভাতাকে শতভাগে (১০০%) উন্নীত করার একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। চলতি মেয়াদের জাতীয় বাজেট চূড়ান্তভাবে অনুমোদনের পর ধাপে ধাপে এই সিদ্ধান্তটি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান প্রধান শিক্ষকের তীব্র সংকটের কথা অকপটে স্বীকার করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, সারাদেশে একযোগে প্রায়৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মহামান্য আদালতের একটি আকস্মিক স্থগিতাদেশের কারণে এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়াটি মাঝপথে আটকে রয়েছে। আইনি এই জটিলতাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কাজ করছে।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা প্রশাসনের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে বলেন, বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নিয়োগের বিরুদ্ধে দেশের উচ্চ ও নিম্ন আদালতে প্রায় ৮৩ হাজার ৫০০টি মামলা বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। এই বিশাল মামলা জট দ্রুত নিরসন করার জন্য সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল এবং আইনমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

মন্ত্রী গভীর আশা প্রকাশ করে বলেন, আদালতে ঝুলে থাকা এসব জটিল মামলার অবসান ঘটানো সম্ভব হলে শিক্ষা খাতের সব ধরনের নতুন নিয়োগ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম আগের চেয়ে অনেক বেশি গতিশীল ও দ্রুত অগ্রসর হবে। এর ফলে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবিগুলো খুব সহজেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন।