ঢাকা ০৪:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় ব্যবস্থা নেবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৫৬:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 19

জাহেদ উর রহমান

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রে হেনস্তার চেষ্টার ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করলে সরকার তা বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেবে না।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ড. ইউনূস বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। সেখানে বিমানবন্দরে তাঁকে হেনস্তার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেওয়াই এ ঘটনার কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। ড. ইউনূসের সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে যৌক্তিক সমালোচনা থাকতে পারে, যা তিনি নিজেও দেশে অবস্থানকালে করেছেন। তবে সমালোচনার নামে কাউকে হেনস্তা করা গ্রহণযোগ্য নয়।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও একই ধরনের আচরণের চেষ্টা করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনে সংহতি জানানো এক অভিনেত্রীও হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তিও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। এসব ঘটনাকে সরকার আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস হিসেবে দেখছে।

তিনি জানান, ওই অভিনেত্রীর ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ড. ইউনূসের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর প্রাপ্য ভিভিআইপি মর্যাদা, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখবে সরকার।

শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরতে পারেন কি না; এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার চায় শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসুন। তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচার ও সাজা হয়েছে। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরলেও সরকারের কোনো সমস্যা নেই। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচার দেশের বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে চায় সরকার। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে।

ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনের ধরন সম্পর্কে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, কিছু গণমাধ্যমের সংবাদ উপস্থাপনা সরকারের নজরে রয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের অংশ হিসেবে এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হয়। তবে সংবাদ উপস্থাপনার ক্ষেত্রে আইনি সীমা মানা হচ্ছে কি না, সেটিও বিবেচনায় রাখা হয়।

তিনি বলেন, প্রতিটি গণমাধ্যমের নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনা বিশ্লেষণের সুযোগ রয়েছে। তবে কেউ আইনি সীমা লঙ্ঘন করলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। অপসাংবাদিকতা মোকাবিলায় প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রেস কাউন্সিলের আইন পরিবর্তনসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় ব্যবস্থা নেবে সরকার

সর্বশেষ আপডেট ০১:৫৬:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রে হেনস্তার চেষ্টার ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করলে সরকার তা বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেবে না।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ড. ইউনূস বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। সেখানে বিমানবন্দরে তাঁকে হেনস্তার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেওয়াই এ ঘটনার কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। ড. ইউনূসের সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে যৌক্তিক সমালোচনা থাকতে পারে, যা তিনি নিজেও দেশে অবস্থানকালে করেছেন। তবে সমালোচনার নামে কাউকে হেনস্তা করা গ্রহণযোগ্য নয়।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও একই ধরনের আচরণের চেষ্টা করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনে সংহতি জানানো এক অভিনেত্রীও হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তিও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। এসব ঘটনাকে সরকার আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস হিসেবে দেখছে।

তিনি জানান, ওই অভিনেত্রীর ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ড. ইউনূসের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর প্রাপ্য ভিভিআইপি মর্যাদা, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখবে সরকার।

শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরতে পারেন কি না; এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার চায় শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসুন। তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচার ও সাজা হয়েছে। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরলেও সরকারের কোনো সমস্যা নেই। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচার দেশের বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে চায় সরকার। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে।

ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনের ধরন সম্পর্কে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, কিছু গণমাধ্যমের সংবাদ উপস্থাপনা সরকারের নজরে রয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের অংশ হিসেবে এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হয়। তবে সংবাদ উপস্থাপনার ক্ষেত্রে আইনি সীমা মানা হচ্ছে কি না, সেটিও বিবেচনায় রাখা হয়।

তিনি বলেন, প্রতিটি গণমাধ্যমের নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনা বিশ্লেষণের সুযোগ রয়েছে। তবে কেউ আইনি সীমা লঙ্ঘন করলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। অপসাংবাদিকতা মোকাবিলায় প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রেস কাউন্সিলের আইন পরিবর্তনসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।