ঢাকা ০৭:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চরফ্যাশনে শিশুদের নিয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ভোলা (চরফ্যাশন)
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪৯:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • / 11

চরফ্যাশনে শিশুদের নিয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজন। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স

বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উপলক্ষে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভোলার চরফ্যাশনে অনুষ্ঠিত হয়েছে পুষ্টি সচেতনতা ও দুগ্ধজাত পণ্যের গুরুত্ব বিষয়ক ব্যতিক্রমী ক্যাম্পেইন। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর অর্থায়নে ও নির্দেশনায় ‘স্পেশাল প্রোগ্রাম- ডেভেলপমেন্ট (এগ্রিকালচার) প্রকল্পের’ আওতায় এই আয়োজন বাস্তবায়ন করে পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ)।

“আসুন দুগ্ধজাত পণ্যের শক্তি উদযাপন করি”-  এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল প্রান্তিক পর্যায়ে নিরাপদ দুধের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুগ্ধ উৎপাদনে নারীদের ভূমিকা তুলে ধরা।

গত বুধবার (১১ জুন) চরফ্যাশন এতিমখানায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০ এতিম শিশুকে দুধ পান করানো হয়। পাশাপাশি দুগ্ধ পুষ্টি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল উৎসবমুখর।

চরফ্যাশনে শিশুদের নিয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজন। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স
চরফ্যাশনে শিশুদের নিয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজন। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স

আয়োজকরা জানান, শিশুদের মধ্যে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চরফ্যাশন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ রাজন আলী। তিনি বলেন, দুধ একটি আদর্শ ও সম্পূর্ণ পুষ্টিকর খাদ্য, যা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ)-এর সিনিয়র প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী শংকর চন্দ্র দেবনাথ। তিনি বলেন, দুধ শুধু সরাসরি পানীয় হিসেবে নয়, বরং দই, ছানা, মাঠা, পনির ও আইসক্রিমসহ বিভিন্ন রূপে শিশুদের খাদ্যাভ্যাসে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এতিমখানার পরিচালক সিরাজুল ইসলাম এবং এফডিএ-এর মৎস্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ সাইদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, কর্মসূচিতে নিরাপদ দুধ উৎপাদন, পুষ্টিগুণ এবং স্বাস্থ্যগত উপকারিতা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুধের বিকল্প দুগ্ধজাত পণ্য যেমন—দই, ছানা ও মাঠা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার বিষয়ে উৎসাহ দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

এছাড়া অংশগ্রহণকারী শিশুদের জন্য মাঠা পান করানো হয় এবং শেষে একটি সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় গজল গান পরিবেশন করা হয়, যা পুরো অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এফডিএ-এর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাওন চন্দ্র শীল।

বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উপলক্ষে চরফ্যাশনের এই আয়োজন শুধু একটি দিবস উদযাপন নয়, বরং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের মধ্যে পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধির একটি সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আয়োজকরা মনে করেন, এ ধরনের কর্মসূচি নিয়মিতভাবে চালু থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

চরফ্যাশনে শিশুদের নিয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজন

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪৯:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উপলক্ষে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভোলার চরফ্যাশনে অনুষ্ঠিত হয়েছে পুষ্টি সচেতনতা ও দুগ্ধজাত পণ্যের গুরুত্ব বিষয়ক ব্যতিক্রমী ক্যাম্পেইন। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর অর্থায়নে ও নির্দেশনায় ‘স্পেশাল প্রোগ্রাম- ডেভেলপমেন্ট (এগ্রিকালচার) প্রকল্পের’ আওতায় এই আয়োজন বাস্তবায়ন করে পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ)।

“আসুন দুগ্ধজাত পণ্যের শক্তি উদযাপন করি”-  এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল প্রান্তিক পর্যায়ে নিরাপদ দুধের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুগ্ধ উৎপাদনে নারীদের ভূমিকা তুলে ধরা।

গত বুধবার (১১ জুন) চরফ্যাশন এতিমখানায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০ এতিম শিশুকে দুধ পান করানো হয়। পাশাপাশি দুগ্ধ পুষ্টি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল উৎসবমুখর।

চরফ্যাশনে শিশুদের নিয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজন। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স
চরফ্যাশনে শিশুদের নিয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজন। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স

আয়োজকরা জানান, শিশুদের মধ্যে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চরফ্যাশন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ রাজন আলী। তিনি বলেন, দুধ একটি আদর্শ ও সম্পূর্ণ পুষ্টিকর খাদ্য, যা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ)-এর সিনিয়র প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী শংকর চন্দ্র দেবনাথ। তিনি বলেন, দুধ শুধু সরাসরি পানীয় হিসেবে নয়, বরং দই, ছানা, মাঠা, পনির ও আইসক্রিমসহ বিভিন্ন রূপে শিশুদের খাদ্যাভ্যাসে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এতিমখানার পরিচালক সিরাজুল ইসলাম এবং এফডিএ-এর মৎস্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ সাইদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, কর্মসূচিতে নিরাপদ দুধ উৎপাদন, পুষ্টিগুণ এবং স্বাস্থ্যগত উপকারিতা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুধের বিকল্প দুগ্ধজাত পণ্য যেমন—দই, ছানা ও মাঠা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার বিষয়ে উৎসাহ দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

এছাড়া অংশগ্রহণকারী শিশুদের জন্য মাঠা পান করানো হয় এবং শেষে একটি সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় গজল গান পরিবেশন করা হয়, যা পুরো অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এফডিএ-এর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাওন চন্দ্র শীল।

বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উপলক্ষে চরফ্যাশনের এই আয়োজন শুধু একটি দিবস উদযাপন নয়, বরং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের মধ্যে পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধির একটি সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আয়োজকরা মনে করেন, এ ধরনের কর্মসূচি নিয়মিতভাবে চালু থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব হবে।