ঢাকা ০৭:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিনামূল্যে মেয়েদের উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৫৮:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • / 23

আগামী অর্থবছরের বাজেটে নারী শিক্ষাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সহায়তার ইঙ্গিত মিলছে, যেখানে স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের পড়াশোনা বিনামূল্যে করার প্রস্তাব গুরুত্ব পাচ্ছে।

আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে ব্যাপক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে থাকা প্রস্তাব অনুযায়ী, নারী শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হতে পারে। একই সঙ্গে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ সরবরাহের মতো সহায়তা কর্মসূচিও বিবেচনায় রয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষায় আরও গুরুত্ব দেওয়ার কথাও আলোচনায় এসেছে।

সূত্রগুলো বলছে, এবারের বাজেটে শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যেখানে পাঠ্যক্রম সংস্কারের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি সরকারের প্রথম বাজেট, যার আকার প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে সারা দেশে ধাপে ধাপে মিড-ডে মিল চালুর প্রস্তাবও বাজেটে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য স্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন ও হাইজিন ব্যবস্থার উন্নয়নের কথাও উল্লেখ আছে।

প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা এবং “ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব” কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে। এতে শিক্ষক–শিক্ষার্থীর ডিজিটাল সংযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে, যদিও বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বাড়াতে বিতর্ক, বিজ্ঞান মেলা, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগও থাকছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন আসতে পারে, তবে পর্যাপ্ত বাজেট ও অবকাঠামো না থাকলে অগ্রগতি ধীর হতে পারে।

এছাড়া শিক্ষাব্যয় ধাপে ধাপে মোট দেশজ উৎপাদনের ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যও আলোচনায় আছে। নতুন পাঠ্যক্রমে নৈতিকতা, নেতৃত্ব, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষাকে আনন্দমুখী করতে “লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস” ধারণা যুক্ত করার পাশাপাশি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষাকে ধীরে ধীরে বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও সামনে এসেছে। একই সঙ্গে বাংলা ও ইংরেজির বাইরে জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফরাসি ও জার্মান ভাষা শেখার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষতা তৈরি করা যায়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বিনামূল্যে মেয়েদের উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৫৮:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

আগামী অর্থবছরের বাজেটে নারী শিক্ষাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সহায়তার ইঙ্গিত মিলছে, যেখানে স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের পড়াশোনা বিনামূল্যে করার প্রস্তাব গুরুত্ব পাচ্ছে।

আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে ব্যাপক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে থাকা প্রস্তাব অনুযায়ী, নারী শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হতে পারে। একই সঙ্গে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ সরবরাহের মতো সহায়তা কর্মসূচিও বিবেচনায় রয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষায় আরও গুরুত্ব দেওয়ার কথাও আলোচনায় এসেছে।

সূত্রগুলো বলছে, এবারের বাজেটে শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যেখানে পাঠ্যক্রম সংস্কারের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি সরকারের প্রথম বাজেট, যার আকার প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে সারা দেশে ধাপে ধাপে মিড-ডে মিল চালুর প্রস্তাবও বাজেটে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য স্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন ও হাইজিন ব্যবস্থার উন্নয়নের কথাও উল্লেখ আছে।

প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা এবং “ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব” কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে। এতে শিক্ষক–শিক্ষার্থীর ডিজিটাল সংযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে, যদিও বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বাড়াতে বিতর্ক, বিজ্ঞান মেলা, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগও থাকছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন আসতে পারে, তবে পর্যাপ্ত বাজেট ও অবকাঠামো না থাকলে অগ্রগতি ধীর হতে পারে।

এছাড়া শিক্ষাব্যয় ধাপে ধাপে মোট দেশজ উৎপাদনের ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যও আলোচনায় আছে। নতুন পাঠ্যক্রমে নৈতিকতা, নেতৃত্ব, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষাকে আনন্দমুখী করতে “লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস” ধারণা যুক্ত করার পাশাপাশি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষাকে ধীরে ধীরে বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও সামনে এসেছে। একই সঙ্গে বাংলা ও ইংরেজির বাইরে জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফরাসি ও জার্মান ভাষা শেখার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষতা তৈরি করা যায়।