চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার পাচারে গ্রেপ্তার দুই
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৬:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
- / 119
চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ড থেকে সুরক্ষিত উপায়ে কোটি টাকার তৈরি পোশাকের কাপড় বোঝাই একটি বিশাল কনটেইনার চুরির ঘটনায় দুই বন্দর কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২০ মে) বন্দর থানা পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে উচ্চমান বহিঃ সহকারী মিজানুর রহমান এবং কিপ ডাউন অপারেটর আবু সুফিয়ানকে আটক করা হয়। গাজীপুরের একটি টেক্সটাইল মিলের আমদানিকৃত এই ৪০ ফুটের কনটেইনারটি জাহাজ থেকে খালাসের পর উধাও হয়ে যায়, যার সুনির্দিষ্ট তদন্তে এই দুই কর্মচারীর প্রত্যক্ষ অপরাধের প্রমাণ মিলেছে।
দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের কঠোর নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে আস্ত একটি পণ্যবাহী যান গায়েব করে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। কাস্টমস ও বন্দরের কিছু অসাধু চক্রের যোগসাজশে এমন সুরক্ষিত রাষ্ট্রীয় কেপিআই (KPI) এলাকা থেকেও যে ডাকাতি সম্ভব, তা এই ঘটনায় পরিষ্কার।
মূলত চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার পাচারে গ্রেপ্তার দুই কর্মকর্তার নাম প্রকাশ পাওয়ার পর থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে বন্দর পাড়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক এই আমদানির পেছনে কয়েক কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির ছকও ছিল।
চীন থেকে আসা গার্মেন্টসের কাপড় বোঝাই কনটেইনারটি বার্থ অপারেটরের মাধ্যমে খালাস করে জে আর ইয়ার্ডে রাখা হয়েছিল। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার পাচারে গ্রেপ্তার দুই আসামির যোগসাজশে সেটি গত আগস্ট থেকে এপ্রিলের মধ্যবর্তী সময়ে পাচার করা হয়।
যখন সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সমস্ত সরকারি শুল্ককর পরিশোধ করে মালামাল খালাস করতে ইয়ার্ডে যান, তখন পুরো কনটেইনারটি উধাও দেখতে পেয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিম জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও নথিপত্র ঘেঁটে এই চুরির সাথে ভেতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জড়িত থাকার অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার পাচারে গ্রেপ্তার দুই অপরাধীকে রিমান্ডে নিয়ে এই আন্তর্জাতিক চোরাচালান সিন্ডিকেটের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। পরিশেষে বলা যায়, দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন খ্যাত চট্টগ্রাম বন্দরে এমন নিরাপত্তা ঘাটতি দেশী-বিদেশী ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে দেবে।





























