চট্টগ্রাম বন্দরে অচল অবস্থা কাটাতে সরকারের সঙ্গে আলোচনার দাবি
- সর্বশেষ আপডেট ১০:২১:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 48
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হওয়ার পর বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তারা বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নগরীর আগ্রাবাদ হোটেলের লবিতে সাংবাদিকদের বলেন, বন্দরের চলমান জটিলতা দ্রুত সমাধানের জন্য সরকারকে আলোচনায় আসার আহ্বান জানাচ্ছেন তারা।
বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বাংলাদেশ ইপিজেড ইনভেস্টরস অ্যাসোসিয়েশন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে, নির্বাচনের আগে এবং রমজান আসন্ন পরিস্থিতিতে সংকটকালীন আন্দোলন এড়িয়ে চলার জন্য শ্রমিক নেতাদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে শ্রমিক নেতারা বদলিসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার এবং এনসিটি ইজারার সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার দাবিতে অনড় ছিলেন।
পোর্ট ইউজার্স ফোরামের শীর্ষ নেতা এবং এশিয়ান গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এম এ সালাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন, “বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে শুধু ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, শ্রমিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
অনেকেই দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন। এখন ব্যবসায়ীরা চোখে অন্ধকার দেখছেন। আগের এক-দুই দিনের স্থগিত চলাচলের সময় জাহাজ সচল ছিল, এবার প্রথমবার পুরো জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়েছে। আন্তর্জাতিক নজর এখন এ বন্দরের দিকে।”
তিনি বলেন, “এ অবস্থায় সরকার দ্রুত আলোচনায় বসলে সমস্যা সমাধান সম্ভব। নির্বাচনের কয়েকদিন বাকি এবং রমজান আসছে, পণ্য সরবরাহে বড় ধরনের ক্ষতি হবে। ফেব্রুয়ারি-মার্চে গার্মেন্টস ও ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরে উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হবে। বন্দরের চার্জেসের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত কনজিউমারের উপর এসে পড়বে। আলোচনা ছাড়া সমাধান নেই।”
গত শনিবার থেকে সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা, এবং মঙ্গলবার থেকে টানা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কারণে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
আমদানি পণ্যের ডেলিভারি, কনটেইনার হ্যান্ডলিং, জেটিতে জাহাজ ওঠানামা, অফডক থেকে কনটেইনার ওঠানামা এবং বন্দরের ভিতরের পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে বহির্নোঙ্গরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য খালাস এখনও চলছে।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়করা শ্রমিকদের বদলি এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে কর্মসূচি চালাচ্ছেন। অন্তত ১৬ জন কর্মচারীকে ঢাকা, মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হলেও তারা নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি।






































