গণমাধ্যম কমিশন গঠন করবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:২৭:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
- / 92
বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনায় তথ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সংবাদমাধ্যমের জবাবদিহি ও নীতিগত কাঠামো শক্ত করতে একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।
গণমাধ্যম খাতকে আরও সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর মধ্যে আনতে নতুন একটি কমিশন গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তার মতে, রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মধ্যে যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য, তা টিকিয়ে রাখতে আলাদা একটি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন হতে পারে।
রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সম্পাদক পরিষদ ও নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষ সম্পাদক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী সরাসরি স্বীকার করেন, গণমাধ্যম খাতে রাষ্ট্র নিজেই অনেক সময় বিতর্কের অংশ হয়ে যায়। এই বাস্তবতা থেকেই একটি স্বাধীন কমিশনের ধারণা সামনে আসে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তার ভাষায়, আধুনিক অনেক দেশই ইতোমধ্যে এ ধরনের নিয়ন্ত্রক বা পরামর্শক সংস্থা তৈরি করেছে, যা নীতি, জবাবদিহি এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে ভূমিকা রাখে।
প্রস্তাবিত কাঠামোর বিষয়ে প্রাথমিক পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। প্রথম ধাপে একটি পরামর্শ কমিটি গঠনের কথা বলা হচ্ছে, যেখানে সাংবাদিক, সম্পাদক, মালিক ও বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা হবে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ কমিশনের কাঠামো তৈরি হতে পারে।
ডিজিটাল গণমাধ্যমের দ্রুত বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ ও বাস্তবতার মিশ্র প্রতিক্রিয়া আসে তার বক্তব্যে। প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ অনেক ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক কোম্পানির হাতে থাকায় জাতীয় পর্যায়ে নীতিনির্ধারণ জটিল হয়ে পড়ছে—এমন একটি বাস্তবতা তিনি তুলে ধরেন। এ কারণে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে সমাধানের পথ খোঁজার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।
গণমাধ্যমের অভ্যন্তরীণ কাঠামো নিয়েও কিছু প্রশ্ন তোলেন তিনি। টেলিভিশনের টিআরপি নির্ধারণ বা পত্রিকার প্রচারসংখ্যা নিয়ে বিদ্যমান পদ্ধতি সবসময় বাস্তবচিত্র প্রতিফলিত করে না—এমন একটি ইঙ্গিত দেন তিনি, যদিও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যায় যাননি।
মন্ত্রী আরও বলেন, গণমাধ্যমকে শুধুমাত্র ব্যবসায়িক খাত হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়। এর সামাজিক প্রভাব এবং জনমতের ওপর ভূমিকা বিবেচনায় নীতিগত সহায়তার বিষয়েও সরকার চিন্তা করছে। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের গঠনমূলক মতামত সরাসরি সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত সাংবাদিকদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা আলোচনায় অংশ নেন এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, কাঠামো ও ভবিষ্যৎ নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।






























