যে কারণে খলিলুর রহমান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:০৭:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 209
অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ড. খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিস্তর আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় পর্যায়েও এই নিয়োগে এক ধরনের অস্বস্তির আভাস মিলছে, আর বিরোধী দলগুলো সরব সমালোচনায় নেমেছে।
দলটির কয়েকজন নেতা অনানুষ্ঠানিকভাবে বলছেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও প্রতিবেশী ভারতের মতো শক্তিধর দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। সেই বিবেচনায় কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্বসম্পন্ন কাউকে প্রয়োজন ছিল। তাদের মতে, খলিলুর রহমানের নিয়োগে এই বাস্তবতাই প্রধান বিবেচ্য হয়েছে।
অন্যদিকে, তার ঘনিষ্ঠ সাবেক কয়েকজন কূটনীতিক ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। তারা মনে করেন, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচন ইস্যুতে অন্তর্বর্তী সরকার যখন চাপে ছিল, তখন রাজনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তৈরি হয়। সেই সময় লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর বৈঠকে খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকের পরই নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে অগ্রগতি দেখা যায়।
সাবেক কূটনীতিকদের ধারণা, লন্ডনের সেই বৈঠক খলিলুর রহমানের জন্য রাজনৈতিক যোগাযোগ পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি করে। তাদের মতে, এরপর থেকে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তার যোগাযোগ আরও জোরদার হয়।
পেছনের ইতিহাসও আলোচনায় এসেছে। ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, সাবেক প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমান-এর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় থেকেই বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে তার সম্পর্কের সূত্রপাত বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করছেন।
খলিলুর রহমানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নির্বাচন আয়োজনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি এমন একটি অবস্থান তুলে ধরতে সক্ষম হন, যা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে ইতিবাচক বার্তা দেয়।
সব মিলিয়ে তার নিয়োগে কূটনৈতিক দক্ষতা, আন্তর্জাতিক সমীকরণ ও অতীত সম্পর্ক—সবকিছুর সমন্বয় কাজ করেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।































