ইরানের আকাশে ‘জেলিফিশ’ ড্রোন!
- সর্বশেষ আপডেট ১০:০৭:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
- / 11
ইরানের আকাশে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার আগে একাধিক ড্রোনকে ‘জেলিফিশ’-সদৃশ আকৃতিতে উড়তে দেখেছেন বলে দাবি করেছেন এক মার্কিন ফাইটার জেট পাইলট। তার এই বক্তব্য ঘিরে মার্কিন গোয়েন্দা ও সামরিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও মতভেদ।
ইরানের আকাশে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার আগে দেখা এক অস্বাভাবিক ড্রোন বিন্যাস নিয়ে বিস্ময়কর দাবি করেছেন প্রাণে বেঁচে ফেরা এক মার্কিন ফাইটার জেট পাইলট। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আকাশে একাধিক ইরানি ড্রোন এমনভাবে সমন্বিত হয়ে উড়ছিল, যা দেখতে অনেকটা জেলিফিশের মতো লাগছিল।
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানায়, ড্রোনগুলো পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে একটি একক কাঠামোর মতো চলাচল করছিল। পাইলটের দাবি, বড় ড্রোনের নিচে কয়েকটি ছোট ড্রোন ঝুলছিল, যা জেলিফিশের পায়ের মতো দেখাচ্ছিল।
এই বর্ণনা মার্কিন গোয়েন্দা ও সামরিক মহলে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। কেউ এটিকে অত্যাধুনিক সমন্বিত ড্রোন প্রযুক্তির উদাহরণ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ পাইলটের পর্যবেক্ষণের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি এ ধরনের ড্রোন নেটওয়ার্ক বাস্তবেই কার্যকর হয়ে থাকে, তাহলে তা আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, বহু ড্রোনের সমন্বিত এই প্রযুক্তি শত্রুপক্ষের নজরদারি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে আক্রমণ পরিচালনায় সক্ষম।
তবে পাইলটের বক্তব্য নিয়ে সংশয়ও রয়েছে। কারণ, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার সময় তিনি গুরুতর মাথার আঘাত বা কনকাশনের শিকার হয়েছিলেন। এছাড়া অতীতে আরেকটি বিমান দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতাও তার ছিল। ফলে তিনি বাস্তবে যা দেখেছেন, নাকি আঘাত ও মানসিক চাপে বিভ্রমের শিকার হয়েছেন—সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
ড্রোন যুদ্ধ ও সামরিক আধুনিকায়ন বিশেষজ্ঞদের মতে, সমন্বিত ড্রোন ঝাঁক বা ‘মেশড নেটওয়ার্কিং’ প্রযুক্তি ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের ড্রোন বিস্ফোরক বহন করে সমন্বিতভাবে হামলা চালাতে পারলে তা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠবে।
এদিকে যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে এই দাবি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে ইরানের ড্রোন সক্ষমতা নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।




































