ঢাকা ০৬:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অমর একুশে বইমেলা শুরু হচ্ছে ২০ ফেব্রুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৩১:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 130

অমর একুশে বইমেলা শুরু হচ্ছে ২০ ফেব্রুয়ারি। ছবি: সংগৃহীত

অমর একুশে বইমেলা শুরু হচ্ছে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে। এ বছর বইমেলা চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত, মোট ২৫ দিন।

আজ বৃহস্পতিবার বিকালে ( ০৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলা একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভবনের চতুর্থ তলায়) আসন্ন অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ বিষয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর সদস্য-সচিব ড. মোঃ সেলিম রেজা।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভাষা শহীদদের স্মরণে একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে বাংলা একাডেমি প্রকাশক ও অংশীজনদের সমন্বয়ে মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালা আয়োজন করে আসছে। সময়ের ধারায় এই আয়োজন আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছে। অনিবার্য বাস্তবতার কারণে অন্যান্য বছরের মতো এবার ১ ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি। সবদিক বিবেচনা করে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে অমর একুশে বইমেলা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বইমেলা পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটির একাধিক বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে মেলার শুরুর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ড. সেলিম রেজা জানান, প্রকাশকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের তুলনায় স্টল ভাড়া ২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে, যদিও সামগ্রিকভাবে বইমেলা আয়োজনের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, বইমেলা আয়োজনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে প্রত্যাশামতো সম্পন্ন হয়েছে। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হয়েছে, সরকারের কাছ থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং স্টল নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। সম্ভাব্য আলোচক ও প্রবন্ধকারদের চিঠি পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এবারের বইমেলায় অংশগ্রহণের জন্য গত বছর অংশ নেওয়া ৫২৭টি প্রতিষ্ঠান এবং নতুন করে ৫৩টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। স্থান সংকুলানের সীমাবদ্ধতার কারণে গত বছরের ৫২৭টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন ২৪টি প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এছাড়া বর্ধিত আকারের স্টলের জন্য ৫৬টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। সরকারি-বেসরকারি শতাধিক প্রতিষ্ঠানও স্টল বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বইমেলার আয়োজনের কাজ যখন প্রায় ৬০ শতাংশ সম্পন্ন, তখন কয়েকজন প্রকাশক ঈদের পর বইমেলা আয়োজনের অনুরোধ জানান।
এ প্রসঙ্গে ড. সেলিম রেজা বলেন, প্রকাশকদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনা হয়েছে। তবে এপ্রিল মাসে তীব্র তাপপ্রবাহ, ধুলোবালি, কালবৈশাখী ও বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা থাকায় ওই সময়ে মাসব্যাপী বইমেলা আয়োজন বাস্তবসম্মত নয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, পবিত্র রমজানের মধ্যে বইমেলা অনুষ্ঠিত হওয়ায় ইফতার, তারাবীহ ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বইমেলার সময়সূচি অনুযায়ী, প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে। শুক্র ও শনিবার মেলা খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

অমর একুশে বইমেলা শুরু হচ্ছে ২০ ফেব্রুয়ারি

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৩১:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অমর একুশে বইমেলা শুরু হচ্ছে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে। এ বছর বইমেলা চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত, মোট ২৫ দিন।

আজ বৃহস্পতিবার বিকালে ( ০৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলা একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভবনের চতুর্থ তলায়) আসন্ন অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ বিষয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর সদস্য-সচিব ড. মোঃ সেলিম রেজা।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভাষা শহীদদের স্মরণে একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে বাংলা একাডেমি প্রকাশক ও অংশীজনদের সমন্বয়ে মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালা আয়োজন করে আসছে। সময়ের ধারায় এই আয়োজন আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছে। অনিবার্য বাস্তবতার কারণে অন্যান্য বছরের মতো এবার ১ ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি। সবদিক বিবেচনা করে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে অমর একুশে বইমেলা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বইমেলা পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটির একাধিক বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে মেলার শুরুর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ড. সেলিম রেজা জানান, প্রকাশকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের তুলনায় স্টল ভাড়া ২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে, যদিও সামগ্রিকভাবে বইমেলা আয়োজনের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, বইমেলা আয়োজনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে প্রত্যাশামতো সম্পন্ন হয়েছে। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হয়েছে, সরকারের কাছ থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং স্টল নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। সম্ভাব্য আলোচক ও প্রবন্ধকারদের চিঠি পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এবারের বইমেলায় অংশগ্রহণের জন্য গত বছর অংশ নেওয়া ৫২৭টি প্রতিষ্ঠান এবং নতুন করে ৫৩টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। স্থান সংকুলানের সীমাবদ্ধতার কারণে গত বছরের ৫২৭টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন ২৪টি প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এছাড়া বর্ধিত আকারের স্টলের জন্য ৫৬টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। সরকারি-বেসরকারি শতাধিক প্রতিষ্ঠানও স্টল বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বইমেলার আয়োজনের কাজ যখন প্রায় ৬০ শতাংশ সম্পন্ন, তখন কয়েকজন প্রকাশক ঈদের পর বইমেলা আয়োজনের অনুরোধ জানান।
এ প্রসঙ্গে ড. সেলিম রেজা বলেন, প্রকাশকদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনা হয়েছে। তবে এপ্রিল মাসে তীব্র তাপপ্রবাহ, ধুলোবালি, কালবৈশাখী ও বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা থাকায় ওই সময়ে মাসব্যাপী বইমেলা আয়োজন বাস্তবসম্মত নয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, পবিত্র রমজানের মধ্যে বইমেলা অনুষ্ঠিত হওয়ায় ইফতার, তারাবীহ ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বইমেলার সময়সূচি অনুযায়ী, প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে। শুক্র ও শনিবার মেলা খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।