ঢাকা ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালির ১১ হাজার নাবিককে সরাচ্ছে জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:০৪:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • / 111

১১ হাজার নাবিককে সরিয়ে নিচ্ছে জাতিসংঘ

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধাবস্থার অবসান এবং চূড়ান্ত সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার আভাস মিলছে। এরই ধারাবাহিকতায় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধের কারণে গত কয়েক মাস ধরে আটকে পড়া ১১ হাজারের বেশি বাণিজ্যিক জাহাজের নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নিতে এক বিশাল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংস্থা (IMO)-র মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিনগুয়েজ এক বিবৃতিতে এই উদ্ধার অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইরান, ওমানসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের উপকূলীয় দেশসমূহ, যুক্তরাষ্ট্র এবং বৈশ্বিক সমুদ্র চলাচল শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত অংশীজনদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ভিত্তিতে এই মানবিক উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। নাবিকদের নিরাপদে নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক এই নৌপথের সার্বিক পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হয়েছে। ওমানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নাবিকদের উদ্ধারের এই মহাপরিকল্পনাটি নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনা চলেছে এবং এখন তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আচমকা হামলার পর তেহরানের পাল্টা জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরান বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালি’ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিলে বিশ্ব বাণিজ্যের প্রধান এই জলপথে শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ ও হাজার হাজার নাবিক আটকা পড়েন। তবে যুদ্ধ বন্ধ এবং চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে গত সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’ জানিয়েছে, দুই পরাশক্তির চুক্তি সইয়ের পর হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেছে। গত সোমবার (২২ জুন) এক দিনেই অন্তত ৩৬টি বিশালাকার বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালি সফলভাবে অতিক্রম করেছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এক দিনে সর্বোচ্চ নৌযান চলাচলের রেকর্ড।

এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবারও পুরোপুরি নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও শৃঙ্খলিত করতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেওয়া যৌথ সামুদ্রিক উদ্যোগে নতুন করে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় দেশ ডেনমার্ক। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, জাতিসংঘের এই উদ্ধার তৎপরতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি সরবরাহ পথটি দ্রুতই তার আগের রূপ ফিরে পাবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

হরমুজ প্রণালির ১১ হাজার নাবিককে সরাচ্ছে জাতিসংঘ

সর্বশেষ আপডেট ১০:০৪:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধাবস্থার অবসান এবং চূড়ান্ত সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার আভাস মিলছে। এরই ধারাবাহিকতায় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধের কারণে গত কয়েক মাস ধরে আটকে পড়া ১১ হাজারের বেশি বাণিজ্যিক জাহাজের নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নিতে এক বিশাল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংস্থা (IMO)-র মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিনগুয়েজ এক বিবৃতিতে এই উদ্ধার অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইরান, ওমানসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের উপকূলীয় দেশসমূহ, যুক্তরাষ্ট্র এবং বৈশ্বিক সমুদ্র চলাচল শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত অংশীজনদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ভিত্তিতে এই মানবিক উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। নাবিকদের নিরাপদে নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক এই নৌপথের সার্বিক পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হয়েছে। ওমানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নাবিকদের উদ্ধারের এই মহাপরিকল্পনাটি নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনা চলেছে এবং এখন তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আচমকা হামলার পর তেহরানের পাল্টা জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরান বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালি’ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিলে বিশ্ব বাণিজ্যের প্রধান এই জলপথে শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ ও হাজার হাজার নাবিক আটকা পড়েন। তবে যুদ্ধ বন্ধ এবং চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে গত সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’ জানিয়েছে, দুই পরাশক্তির চুক্তি সইয়ের পর হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেছে। গত সোমবার (২২ জুন) এক দিনেই অন্তত ৩৬টি বিশালাকার বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালি সফলভাবে অতিক্রম করেছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এক দিনে সর্বোচ্চ নৌযান চলাচলের রেকর্ড।

এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবারও পুরোপুরি নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও শৃঙ্খলিত করতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেওয়া যৌথ সামুদ্রিক উদ্যোগে নতুন করে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় দেশ ডেনমার্ক। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, জাতিসংঘের এই উদ্ধার তৎপরতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি সরবরাহ পথটি দ্রুতই তার আগের রূপ ফিরে পাবে।