শেষ বিদায়ে জনসমুদ্র!
- সর্বশেষ আপডেট ১২:২৩:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
- / 20
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়ে যেন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে রাজধানী তেহরান। সোমবার (৬ জুলাই) ভোর থেকেই শহরের প্রধান সড়কগুলো লাখো শোকাহত মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, আধুনিক ইরানের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় শোক র্যালি।
স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্স থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়। এর আগে টানা দুই দিন সেখানে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খামেনির মরদেহ রাখা হয়েছিল।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই শোকযাত্রা শেষ হতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। শোভাযাত্রাটি দামাভান্দ স্ট্রিট, ইমাম হুসেইন স্কয়ার, এনকেলাব স্ট্রিট, এনকেলাব স্কয়ার, আজাদি স্ট্রিট ও আজাদি স্কয়ার হয়ে মেহরাবাদ বিমানবন্দরের কাছের শহিদ লাশগারি মহাসড়কে গিয়ে শেষ হবে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি ও আইআরআইবি জানিয়েছে, ইরানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ তেহরানে এসে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শত শত হাজার মানুষ মোসাল্লা মসজিদে কফিনের পাশ দিয়ে হেঁটে বিদায় জানাচ্ছেন প্রভাবশালী এই নেতাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই শোকানুষ্ঠান কেবল একজন নেতার বিদায় নয়; বরং প্রায় চার দশক দেশ পরিচালনা করা নেতার মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতার বার্তাও দিচ্ছে তেহরান।
গত শুক্রবার রাশিয়া, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ইরাক, তাজিকিস্তান, তুরস্কসহ ৭০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা তেহরানে এসে খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
মঙ্গলবার পবিত্র শহর কোমে, বুধবার ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। খামেনির ইচ্ছা অনুযায়ী আগামী ৯ জুলাই ইরানের মাশহাদে ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হবে।
শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া কিছু মানুষের হাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার আহ্বানসংবলিত ব্যানার এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছবিযুক্ত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। কিছু প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল- “রক্ত ঝরবেই”।



































