যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি ঘিরে কাটেনি ধোঁয়াশা
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৫৯:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
- / 19
দীর্ঘদিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির খসড়া এরই মধ্যে সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়েছে। আজ রোববার (১৪ জুন) যেকোনো মুহূর্তে এই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সই হতে পারে বলে জোরালো গুঞ্জন রয়েছে। তবে বিশ্বরাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করা এই চুক্তির প্রকৃত বিষয়বস্তু এবং ভেতরের শর্তাবলি নিয়ে সইয়ের আগমুহূর্তেও দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধোঁয়াশা ও অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। চুক্তির মূল ধারাগুলো নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে সংশয় তৈরি করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের অবস্থান তুলনামূলকভাবে বেশ অস্পষ্ট ও রহস্যময়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে চালু করা বাণিজ্যিক জাহাজের টোল আদায়ের বিষয়টি সরাসরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং এটি বর্তমান সমঝোতা স্মারকেরই একটি অন্যতম অংশ। তবে তেহরানের এই দাবিকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কোনো ধরনের শর্ত বা টোল আদায় ছাড়াই অবিলম্বে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিতে হবে।
প্রণালি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকে ইরানের জব্দকৃত বিশাল অর্থ ও সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের মতবিরোধ দেখা গেছে। ইরানের দাবি, চুক্তির খসড়াতেই তাদের অবরুদ্ধ সম্পদ অবিলম্বে মুক্ত করার বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এটি কি বর্তমান সমঝোতার অংশ নাকি ভবিষ্যতে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হওয়া সম্ভাব্য কোনো বৃহত্তর চুক্তির অংশ—সেটি এখনও পরিষ্কার করা হয়নি। একইভাবে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি পুরোপুরি প্রত্যাহারের শর্তের কথা বললেও, এই বিষয়টি আদৌ বর্তমান সমঝোতা স্মারকে স্থান পেয়েছে কি না, তা নিয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।
অন্য দিকে, শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চুক্তির বিষয়ে এক বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, দেশ দুটির মধ্যে আজ রোববারই চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে এবং চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরপরই হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। তবে ট্রাম্প তাঁর বার্তায় এক বিস্ফোরক শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত হওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে ইরানের পারমাণবিক উপাদানগুলো নিজেদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেবে এবং তা স্থায়ীভাবে নিষ্ক্রিয় করে ধ্বংস করে দেবে। ওয়াশিংটনের এমন দাবি তেহরান কতটা মেনে নেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছিলেন, উভয় পক্ষ শান্তি চুক্তির একটি নির্দিষ্ট কাঠামোতে সম্মত হয়েছে এবং আজ রোববার ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে (ই-স্বাক্ষর) চুক্তি স্বাক্ষরের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। এর পর আগামী সপ্তাহে দুই দেশের মাঝে কারিগরি ও কৌশলগত পর্যায়ের মূল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এমন দাবির বিপরীতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা খুব বেশি হলেও তা আজ রোববারই নিশ্চিতভাবে হবে—এমন কোনো গ্যারান্টি নেই। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, আগামী দুই-একদিনের মধ্যে জেনেভা বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক ভেন্যুতে সশরীরে সফরের কোনো পরিকল্পনা তেহরানের নেই।
যদিও মার্কিন প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘এক্সিওস’ তাদের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পাকিস্তান, কাতার, মিশর ও তুরস্কের যৌথ মধ্যস্থতায় হওয়া দীর্ঘ আলোচনার অংশ হিসেবে একটি হাইপ্রোফাইল ভার্চুয়াল বা অনলাইন বৈঠকের মাধ্যমেই আজকের এই ঐতিহাসিক সমঝোতাটি চূড়ান্ত রূপ পেতে পারে। বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্যসূত্রের ওপর ভিত্তি করে এই আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।


































