ঢাকা ০৪:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুখোমুখি আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়ে পুতিনকে জেলেনস্কির খোলাচিঠি

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:১৭:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
  • / 26

পুতিনকে জেলেনস্কির খোলাচিঠি

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সরাসরি মুখোমুখি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে একটি দীর্ঘ খোলাচিঠি দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ১৮০০ শব্দেরও বেশি দীর্ঘ এই চিঠিতে ইউক্রেনীয় নেতা উল্লেখ করেছেন যে, ইউরোপের এই যুদ্ধে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ ফিরে আসা পর্যন্ত “অপেক্ষা করাটা ভুল হবে”। তিনি স্পষ্ট জানান, কেবল ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি ও মুখোমুখি আলোচনা এর মাধ্যমেই টেকসই শান্তি আসতে পারে। এই প্রস্তাবিত বৈঠকের সময়সীমা পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিরও আহ্বান জানিয়েছেন জেলেনস্কি, যদিও ক্রেমলিন এর আগে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে তাদের অসম্মতির কথা জানিয়েছিল। তবে এবারের চিঠিতে জেলেনস্কি কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক সুরে ২৬ বছর ক্ষমতায় থাকা পুতিনের বয়স নিয়ে যেমন ইঙ্গিত করেছেন, তেমনই সুইজারল্যান্ড বা তুরস্কের মতো কোনো নিরপেক্ষ দেশে এই বিশেষ বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের এই আকস্মিক ও খোলামেলা চিঠির ব্যাপারে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, দুই দেশের এই শীর্ষ নেতার মধ্যে মুখোমুখি আলোচনা হলে তা হবে “দারুণ” এবং তাদের দ্রুতই এই কাজটি সম্পন্ন করা উচিত। ক্রেমলিনও নিশ্চিত করেছে যে তারা জেলেনস্কির চিঠিটি পেয়েছে এবং পুতিনকে এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে। কিয়েভ অবশ্য প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র এখন পুরোপুরিভাবে ইরানের ইস্যু নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে, যার ফলে ইউরোপের যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর মনোযোগ কিছুটা কমেছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রিয়ে সিবিহা এই চিঠিকে যুদ্ধ শেষ করার একটি অত্যন্ত অর্থবহ প্রস্তাব হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং মস্কোর কাছ থেকে ইতিবাচক জবাব আশা করছেন।

এদিকে, সেন্ট পিটার্সবার্গে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পুতিন জানিয়েছেন যে, তিনি ইউক্রেনের সাথে চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত, তবে উভয় পক্ষকেই কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিতে হবে। পুতিন ইঙ্গিত দেন, ট্রাম্প যেহেতু ইরান নিয়ে ব্যস্ত, তাই ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কিয়েভকে ভূখণ্ড সমর্পণের জন্য রাজি করাতে পারে। তবে পুতিনের দীর্ঘদিনের শর্ত হলো— ইউক্রেনকে অবশ্যই রাশিয়ার আংশিক দখলে থাকা চারটি অঞ্চল (দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া) থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে এবং নেটোতে (NATO) যোগদানের প্রচেষ্টা চিরতরে ত্যাগ করতে হবে। অন্যদিকে, ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার এই দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেন। তাদের যুক্তি, এটি রাশিয়াকে ভবিষ্যতে আবার আক্রমণ করার সাহস জোগাবে। সেন্ট পিটার্সবার্গে একটি বড় অর্থনৈতিক ফোরাম চলাকালীন এই চিঠি আসায় এবং সম্প্রতি রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার ঘটনার কারণে পরিস্থিতি ও দুই নেতার মুখোমুখি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মুখোমুখি আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়ে পুতিনকে জেলেনস্কির খোলাচিঠি

সর্বশেষ আপডেট ০২:১৭:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সরাসরি মুখোমুখি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে একটি দীর্ঘ খোলাচিঠি দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ১৮০০ শব্দেরও বেশি দীর্ঘ এই চিঠিতে ইউক্রেনীয় নেতা উল্লেখ করেছেন যে, ইউরোপের এই যুদ্ধে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ ফিরে আসা পর্যন্ত “অপেক্ষা করাটা ভুল হবে”। তিনি স্পষ্ট জানান, কেবল ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি ও মুখোমুখি আলোচনা এর মাধ্যমেই টেকসই শান্তি আসতে পারে। এই প্রস্তাবিত বৈঠকের সময়সীমা পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিরও আহ্বান জানিয়েছেন জেলেনস্কি, যদিও ক্রেমলিন এর আগে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে তাদের অসম্মতির কথা জানিয়েছিল। তবে এবারের চিঠিতে জেলেনস্কি কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক সুরে ২৬ বছর ক্ষমতায় থাকা পুতিনের বয়স নিয়ে যেমন ইঙ্গিত করেছেন, তেমনই সুইজারল্যান্ড বা তুরস্কের মতো কোনো নিরপেক্ষ দেশে এই বিশেষ বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের এই আকস্মিক ও খোলামেলা চিঠির ব্যাপারে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, দুই দেশের এই শীর্ষ নেতার মধ্যে মুখোমুখি আলোচনা হলে তা হবে “দারুণ” এবং তাদের দ্রুতই এই কাজটি সম্পন্ন করা উচিত। ক্রেমলিনও নিশ্চিত করেছে যে তারা জেলেনস্কির চিঠিটি পেয়েছে এবং পুতিনকে এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে। কিয়েভ অবশ্য প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র এখন পুরোপুরিভাবে ইরানের ইস্যু নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে, যার ফলে ইউরোপের যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর মনোযোগ কিছুটা কমেছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রিয়ে সিবিহা এই চিঠিকে যুদ্ধ শেষ করার একটি অত্যন্ত অর্থবহ প্রস্তাব হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং মস্কোর কাছ থেকে ইতিবাচক জবাব আশা করছেন।

এদিকে, সেন্ট পিটার্সবার্গে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পুতিন জানিয়েছেন যে, তিনি ইউক্রেনের সাথে চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত, তবে উভয় পক্ষকেই কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিতে হবে। পুতিন ইঙ্গিত দেন, ট্রাম্প যেহেতু ইরান নিয়ে ব্যস্ত, তাই ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কিয়েভকে ভূখণ্ড সমর্পণের জন্য রাজি করাতে পারে। তবে পুতিনের দীর্ঘদিনের শর্ত হলো— ইউক্রেনকে অবশ্যই রাশিয়ার আংশিক দখলে থাকা চারটি অঞ্চল (দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া) থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে এবং নেটোতে (NATO) যোগদানের প্রচেষ্টা চিরতরে ত্যাগ করতে হবে। অন্যদিকে, ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার এই দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেন। তাদের যুক্তি, এটি রাশিয়াকে ভবিষ্যতে আবার আক্রমণ করার সাহস জোগাবে। সেন্ট পিটার্সবার্গে একটি বড় অর্থনৈতিক ফোরাম চলাকালীন এই চিঠি আসায় এবং সম্প্রতি রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার ঘটনার কারণে পরিস্থিতি ও দুই নেতার মুখোমুখি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।