ঢাকা ০৩:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাস আড়াই ঘণ্টা পর উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ী
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:০৫:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
  • / 30

পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাস উদ্ধার

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনের র‌্যাম ভেঙে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাসটি দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর ১২টার দিকে নদী থেকে বাসটি টেনে তোলা হয়। এর আগে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফেরিঘাটের ৭ নম্বর পন্টুনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘এসবি পরিবহন’-এর যাত্রীবাহী বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে সৌভাগ্যবশত, দুর্ঘটনার ঠিক পূর্বমুহূর্তে বাসের সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ায় এক বড় ধরনের ভয়াবহ প্রাণহানি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকালে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা এসবি পরিবহনের বাসটি ৭ নম্বর ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারায়। পন্টুনের র‌্যাম ভেঙে সেটি সরাসরি পদ্মায় পড়ে যায়। ঘটনার পর বিআইডব্লিউটিএ-এর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে এবং দুপুর ১২টার দিকে পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাসটি নদী থেকে ওপরে তুলতে সক্ষম হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ফেরিতে ওঠার সময় উপস্থিত লোকজনের অনুরোধে বাসের যাত্রীদের আগেই নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। গাড়িটি যখন নিয়ন্ত্রণ হারায়, তখন ভেতরে শুধু চালক, সহকারী (হেলপার) এবং সুপারভাইজার ছিলেন। চালক গাড়িটি বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে তাদের তিনজনকে আহত অবস্থায় নদী থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দৌলতদিয়ার মতো দেশের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফেরিঘাটে পন্টুনের র‌্যাম বা ঢালা ভেঙে পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাস এর এই ঘটনাটি ফেরিঘাটগুলোর অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো ও ফিটনেসের বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। স্থানীয় চালক ও সাধারণ যাত্রীরা জানান, ঘাটের পন্টুন ও পকেটগুলোর নিয়মিত সংস্কার না করায় প্রায়শই যানবাহন পারাপারে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমের শুরুতে নদী উত্তাল থাকায় এবং স্রোতের কারণে পন্টুনের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই দুর্ঘটনার পর দৌলতদিয়া রুটে সাময়িকভাবে যানবাহন পারাপার ব্যাহত হলেও বাসটি উদ্ধারের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। নৌ-নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা অবিলম্বে দেশের সকল ফেরিঘাটের পন্টুন ও র‌্যামগুলোর যান্ত্রিক ত্রুটি পরীক্ষা এবং সংস্কার করার তাগিদ দিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঝুঁকিপূর্ণ দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাস আড়াই ঘণ্টা পর উদ্ধার

সর্বশেষ আপডেট ০২:০৫:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনের র‌্যাম ভেঙে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাসটি দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর ১২টার দিকে নদী থেকে বাসটি টেনে তোলা হয়। এর আগে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফেরিঘাটের ৭ নম্বর পন্টুনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘এসবি পরিবহন’-এর যাত্রীবাহী বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে সৌভাগ্যবশত, দুর্ঘটনার ঠিক পূর্বমুহূর্তে বাসের সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ায় এক বড় ধরনের ভয়াবহ প্রাণহানি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকালে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা এসবি পরিবহনের বাসটি ৭ নম্বর ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারায়। পন্টুনের র‌্যাম ভেঙে সেটি সরাসরি পদ্মায় পড়ে যায়। ঘটনার পর বিআইডব্লিউটিএ-এর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে এবং দুপুর ১২টার দিকে পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাসটি নদী থেকে ওপরে তুলতে সক্ষম হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ফেরিতে ওঠার সময় উপস্থিত লোকজনের অনুরোধে বাসের যাত্রীদের আগেই নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। গাড়িটি যখন নিয়ন্ত্রণ হারায়, তখন ভেতরে শুধু চালক, সহকারী (হেলপার) এবং সুপারভাইজার ছিলেন। চালক গাড়িটি বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে তাদের তিনজনকে আহত অবস্থায় নদী থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দৌলতদিয়ার মতো দেশের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফেরিঘাটে পন্টুনের র‌্যাম বা ঢালা ভেঙে পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাস এর এই ঘটনাটি ফেরিঘাটগুলোর অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো ও ফিটনেসের বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। স্থানীয় চালক ও সাধারণ যাত্রীরা জানান, ঘাটের পন্টুন ও পকেটগুলোর নিয়মিত সংস্কার না করায় প্রায়শই যানবাহন পারাপারে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমের শুরুতে নদী উত্তাল থাকায় এবং স্রোতের কারণে পন্টুনের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই দুর্ঘটনার পর দৌলতদিয়া রুটে সাময়িকভাবে যানবাহন পারাপার ব্যাহত হলেও বাসটি উদ্ধারের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। নৌ-নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা অবিলম্বে দেশের সকল ফেরিঘাটের পন্টুন ও র‌্যামগুলোর যান্ত্রিক ত্রুটি পরীক্ষা এবং সংস্কার করার তাগিদ দিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঝুঁকিপূর্ণ দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।