ঢাকা ০৫:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিছিল ঠেকাতে ওসিদের সতর্ক করল ডিএমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:১৪:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 39

ডিএমপি

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল ঠেকাতে ব্যর্থতার বিষয়টি আলোচনায় আসার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যে কোনো মূল্যে নিষিদ্ধ দলটির মিছিল ও অপতৎপরতা ঠেকাতে বলা হয়েছে। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ওসিকে জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

সোমবার ডিএমপির মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় থানার ওসিদের এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় গত শুক্রবার গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিলের বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনা করা হয়।

সভা সূত্র জানায়, গুলশানের মিছিলের মাত্র আট মিনিট আগে একটি গোয়েন্দা সংস্থা থেকে পুলিশকে তথ্য দেওয়া হয়েছিল। তথ্য পাওয়ার পরই মিছিল ঠেকাতে গুলশান থানা পুলিশ তৎপর হয়। তবে ভবিষ্যতে রাজধানীর কোথাও যাতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সংগঠিত হয়ে মিছিল বা কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। এতে ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, ক্রাইম বিভাগের উপকমিশনার এবং ৫০ থানার ওসিরা উপস্থিত ছিলেন। আগস্ট মাসে রাজধানীতে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ পরিস্থিতি নিয়েও সভায় আলোচনা হয়।

সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, গুলশানের মিছিল ও পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় নির্দিষ্ট কোনো পুলিশ কর্মকর্তাকে এককভাবে দায়ী করা হয়নি। তবে কোথায় তথ্যের ঘাটতি ছিল এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা কীভাবে ঠেকানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল ঠেকানোর পাশাপাশি ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধেও ওসিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গড়িমসি ও শৃঙ্খলাভঙ্গ বরদাশত করা হবে না বলে সতর্ক করেছেন ডিএমপি কমিশনার।

সভায় আবাসিক হোটেলসহ বিভিন্ন হোটেলের অতিথিদের তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ ও সংরক্ষণের নির্দেশও দেওয়া হয়। রাজধানীর বাইরে থেকে অপরাধীরা যাতে ঢাকায় এসে অপরাধে জড়াতে না পারে, সেজন্য প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্লক চেকসহ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেন কমিশনার।

সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের আগেই তাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এদিকে থানায় ওসিদের উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও সভায় গুরুত্ব পায়। সম্প্রতি তেজগাঁও থানায় পরিদর্শনে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওসিকে পাননি। একইভাবে পল্টন থানায় গিয়ে আইজিপি আলী হোসেন ফকির ও ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিনও ওসিকে পাননি। পরে তেজগাঁও থানার ওসি ক্যশৈন্যু মারমা এবং পল্টন মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খানকে প্রত্যাহার করা হয়।

ওসিদের উদ্দেশে ডিএমপি কমিশনার বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় থানায় অবস্থান করতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ে পোশাক পরতে হবে। থানার পরিবেশ ও পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে থানার বাইরে গেলে জিডিতে নোট করে পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়ে যেতে হবে।

সভায় থানাগুলোকে এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো এলাকায় নিরাপত্তার শূন্যতা তৈরি করা যাবে না। অপরাধ প্রতিরোধে সিটিটিসি, ডিবি ও থানা পুলিশকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মিছিল ঠেকাতে ওসিদের সতর্ক করল ডিএমপি

সর্বশেষ আপডেট ১২:১৪:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল ঠেকাতে ব্যর্থতার বিষয়টি আলোচনায় আসার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যে কোনো মূল্যে নিষিদ্ধ দলটির মিছিল ও অপতৎপরতা ঠেকাতে বলা হয়েছে। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ওসিকে জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

সোমবার ডিএমপির মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় থানার ওসিদের এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় গত শুক্রবার গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিলের বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনা করা হয়।

সভা সূত্র জানায়, গুলশানের মিছিলের মাত্র আট মিনিট আগে একটি গোয়েন্দা সংস্থা থেকে পুলিশকে তথ্য দেওয়া হয়েছিল। তথ্য পাওয়ার পরই মিছিল ঠেকাতে গুলশান থানা পুলিশ তৎপর হয়। তবে ভবিষ্যতে রাজধানীর কোথাও যাতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সংগঠিত হয়ে মিছিল বা কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। এতে ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, ক্রাইম বিভাগের উপকমিশনার এবং ৫০ থানার ওসিরা উপস্থিত ছিলেন। আগস্ট মাসে রাজধানীতে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ পরিস্থিতি নিয়েও সভায় আলোচনা হয়।

সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, গুলশানের মিছিল ও পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় নির্দিষ্ট কোনো পুলিশ কর্মকর্তাকে এককভাবে দায়ী করা হয়নি। তবে কোথায় তথ্যের ঘাটতি ছিল এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা কীভাবে ঠেকানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল ঠেকানোর পাশাপাশি ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধেও ওসিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গড়িমসি ও শৃঙ্খলাভঙ্গ বরদাশত করা হবে না বলে সতর্ক করেছেন ডিএমপি কমিশনার।

সভায় আবাসিক হোটেলসহ বিভিন্ন হোটেলের অতিথিদের তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ ও সংরক্ষণের নির্দেশও দেওয়া হয়। রাজধানীর বাইরে থেকে অপরাধীরা যাতে ঢাকায় এসে অপরাধে জড়াতে না পারে, সেজন্য প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্লক চেকসহ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেন কমিশনার।

সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের আগেই তাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এদিকে থানায় ওসিদের উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও সভায় গুরুত্ব পায়। সম্প্রতি তেজগাঁও থানায় পরিদর্শনে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওসিকে পাননি। একইভাবে পল্টন থানায় গিয়ে আইজিপি আলী হোসেন ফকির ও ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিনও ওসিকে পাননি। পরে তেজগাঁও থানার ওসি ক্যশৈন্যু মারমা এবং পল্টন মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খানকে প্রত্যাহার করা হয়।

ওসিদের উদ্দেশে ডিএমপি কমিশনার বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় থানায় অবস্থান করতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ে পোশাক পরতে হবে। থানার পরিবেশ ও পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে থানার বাইরে গেলে জিডিতে নোট করে পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়ে যেতে হবে।

সভায় থানাগুলোকে এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো এলাকায় নিরাপত্তার শূন্যতা তৈরি করা যাবে না। অপরাধ প্রতিরোধে সিটিটিসি, ডিবি ও থানা পুলিশকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়।