ঢাকা ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাপার প্রশিক্ষণে দক্ষ হলো ৪৬ হাজার মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৫৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 34

বাপার প্রশিক্ষণে দক্ষ হলো ৪৬ হাজার মানুষ

দেশের অ্যাগ্রো-ফুড ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে দক্ষ জনবল তৈরিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)। অ্যাসেট প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এন্টারপ্রাইজ-বেইজড ট্রেনিং (ইবিটি) কার্যক্রমে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ১ হাজার ৯১৯টি ব্যাচে মোট ৪৬ হাজার ৫৬ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। এর মাধ্যমে নির্ধারিত প্রশিক্ষণ লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ অর্জন করেছে বাপা।

শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়ার মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রশিক্ষণার্থীদের দক্ষতা যাচাইয়ে পরিচালিত কম্পিটেন্সি অ্যাসেসমেন্টে অংশ নিয়েছেন ৩০ হাজার ৮৬০ জন। তাদের মধ্যে ২৮ হাজার ৮৬৫ জনকে কম্পিটেন্ট হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে, যা অংশগ্রহণকারীদের ৯৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। একই সময়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২০ হাজার ৮০৫ জনের কর্মসংস্থান বা আত্মকর্মসংস্থানের তথ্যও রেকর্ড করা হয়েছে।

বাপা সূত্র জানায়, অ্যাগ্রো-ফুড ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও কর্মোপযোগী জনবল তৈরি করাই ইবিটি কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর মাধ্যমে তরুণ ও কর্মপ্রত্যাশীরা বিভিন্ন কারিগরি ও পেশাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রশিক্ষণ শেষে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বেকিং, প্যাকেজিং, বিক্রয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে অনেকে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রশিক্ষণে নারীদের অংশগ্রহণ ৫৬.৬৬ শতাংশ

বাপার ইবিটি কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য। মোট প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ২৬ হাজার ৯৬ জন নারী, যা মোট অংশগ্রহণকারীর ৫৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এ ছাড়া ৫৬ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং ৫৫৮ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় এসেছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি নারীদের কর্মসংস্থান ও আয়মুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বেকিং খাতে প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক নারী কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছেন।

দক্ষতা যাচাইয়ে সাফল্য ৯৩.৫৪ শতাংশ

প্রশিক্ষণের গুণগত মান নিশ্চিত করতে কম্পিটেন্সি অ্যাসেসমেন্টকে গুরুত্ব দিচ্ছে বাপা। এ পর্যন্ত মূল্যায়নে অংশ নেওয়া ৩০ হাজার ৮৬০ জনের মধ্যে ২৮ হাজার ৮৬৫ জন কম্পিটেন্ট হিসেবে মূল্যায়িত হয়েছেন। এতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের কার্যকারিতার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাপার সভাপতি মাহবুব আনাম বলেন, ৪৬ হাজারের বেশি প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং মূল্যায়নে অংশ নেওয়া প্রশিক্ষণার্থীদের ৯৩ দশমিক ৫৪ শতাংশকে কম্পিটেন্ট হিসেবে পাওয়া উৎসাহব্যঞ্জক সাফল্য। এখন দক্ষ জনবলকে আরও বেশি কর্মসংস্থান ও আয়মুখী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করাই প্রধান লক্ষ্য।

তিনি বলেন, দেশের অ্যাগ্রো-ফুড ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের বিকাশে দক্ষ জনবল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

বাপা সংশ্লিষ্টদের মতে, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী জনবল তৈরির মাধ্যমে ইবিটি কার্যক্রম দেশের অ্যাগ্রো-ফুড ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতকে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে নারী, প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের অংশগ্রহণ এ কার্যক্রমকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করেছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বাপার প্রশিক্ষণে দক্ষ হলো ৪৬ হাজার মানুষ

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৫৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের অ্যাগ্রো-ফুড ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে দক্ষ জনবল তৈরিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)। অ্যাসেট প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এন্টারপ্রাইজ-বেইজড ট্রেনিং (ইবিটি) কার্যক্রমে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ১ হাজার ৯১৯টি ব্যাচে মোট ৪৬ হাজার ৫৬ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। এর মাধ্যমে নির্ধারিত প্রশিক্ষণ লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ অর্জন করেছে বাপা।

শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়ার মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রশিক্ষণার্থীদের দক্ষতা যাচাইয়ে পরিচালিত কম্পিটেন্সি অ্যাসেসমেন্টে অংশ নিয়েছেন ৩০ হাজার ৮৬০ জন। তাদের মধ্যে ২৮ হাজার ৮৬৫ জনকে কম্পিটেন্ট হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে, যা অংশগ্রহণকারীদের ৯৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। একই সময়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২০ হাজার ৮০৫ জনের কর্মসংস্থান বা আত্মকর্মসংস্থানের তথ্যও রেকর্ড করা হয়েছে।

বাপা সূত্র জানায়, অ্যাগ্রো-ফুড ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও কর্মোপযোগী জনবল তৈরি করাই ইবিটি কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর মাধ্যমে তরুণ ও কর্মপ্রত্যাশীরা বিভিন্ন কারিগরি ও পেশাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রশিক্ষণ শেষে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বেকিং, প্যাকেজিং, বিক্রয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে অনেকে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রশিক্ষণে নারীদের অংশগ্রহণ ৫৬.৬৬ শতাংশ

বাপার ইবিটি কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য। মোট প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ২৬ হাজার ৯৬ জন নারী, যা মোট অংশগ্রহণকারীর ৫৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এ ছাড়া ৫৬ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং ৫৫৮ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় এসেছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি নারীদের কর্মসংস্থান ও আয়মুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বেকিং খাতে প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক নারী কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছেন।

দক্ষতা যাচাইয়ে সাফল্য ৯৩.৫৪ শতাংশ

প্রশিক্ষণের গুণগত মান নিশ্চিত করতে কম্পিটেন্সি অ্যাসেসমেন্টকে গুরুত্ব দিচ্ছে বাপা। এ পর্যন্ত মূল্যায়নে অংশ নেওয়া ৩০ হাজার ৮৬০ জনের মধ্যে ২৮ হাজার ৮৬৫ জন কম্পিটেন্ট হিসেবে মূল্যায়িত হয়েছেন। এতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের কার্যকারিতার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাপার সভাপতি মাহবুব আনাম বলেন, ৪৬ হাজারের বেশি প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং মূল্যায়নে অংশ নেওয়া প্রশিক্ষণার্থীদের ৯৩ দশমিক ৫৪ শতাংশকে কম্পিটেন্ট হিসেবে পাওয়া উৎসাহব্যঞ্জক সাফল্য। এখন দক্ষ জনবলকে আরও বেশি কর্মসংস্থান ও আয়মুখী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করাই প্রধান লক্ষ্য।

তিনি বলেন, দেশের অ্যাগ্রো-ফুড ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের বিকাশে দক্ষ জনবল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

বাপা সংশ্লিষ্টদের মতে, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী জনবল তৈরির মাধ্যমে ইবিটি কার্যক্রম দেশের অ্যাগ্রো-ফুড ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতকে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে নারী, প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের অংশগ্রহণ এ কার্যক্রমকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করেছে।