ঠাকুরগাঁওয়ে রাষ্ট্রপতি
প্রতিশোধ ও সংঘাতের রাজনীতি আর দেখতে চাই না
- সর্বশেষ আপডেট ০১:১৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 43
প্রতিশোধ ও সংঘাতের রাজনীতি পরিহার করে দেশকে গণতন্ত্র ও সহনশীলতার পথে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
বেলা ১১টা ২০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাষ্ট্রপতি।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, হানাহানি ও সংঘাত নয়, আলাপ-আলোচনা এবং সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিশোধ, সংঘাতের রাজনীতি দেখতে চাই না। অনেক হয়েছে। এখন গণতন্ত্রের রাজনীতি, সহনশীলতার রাজনীতির দিকে গোটা দেশের মানুষের যাওয়া উচিত।’
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিভাজন দূর করে দেশে সম্প্রীতির রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে জেলার মানুষের জন্য আনন্দের দিন উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই এর নির্মাণকাজ শুরু হবে। বিশ্ববিদ্যালয়টি চালু হলে ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ফলে এলাকায় উচ্চশিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে। শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে উপাচার্যের ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি স্থানীয় জনগণকে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে নিজেদের সম্পদ হিসেবে দেখভালের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই এর উন্নয়ন ও সুরক্ষায় স্থানীয় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটি তার প্রথম সরকারি সফর। দুই দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এর আগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। হেলিকপ্টারে করে শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাকে স্বাগত জানানো হয়। পরে সার্কিট হাউসে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
সেখানে আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে ঠাকুরগাঁওজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। শহরের প্রধান সড়ক, বিভিন্ন মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সাজানো হয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির যাতায়াতের পথ ও কর্মসূচিস্থলে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।






























