ঢাকা ০৫:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পলাশবাড়ীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাইবান্ধা
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:৩৩:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • / 14

ককটেল বিস্ফোরণ

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে স্থানীয় একটি হাটের আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পলাশবাড়ী পৌর শহরের ছোটশিমুলতলা পানহাটি এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। আকস্মিক এই সংঘাতের জেরে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ওই নির্দিষ্ট পানহাটির দখল ও নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র বিরোধ ও কোন্দল চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সকালে উভয় পক্ষের শত শত লোক লাঠিসোঁটা, দেশীয় অস্ত্র এবং ইট-পাটকেল নিয়ে প্রকাশ্য সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পলাশবাড়ী-ঘোড়াঘাট আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে দুই পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে অনবরত ইট মারতে থাকে। এ সময় বেশ কয়েকটি শক্তিশালী ককটেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আশপাশের পথচারী ও ব্যবসায়ীরা দিক-বিদিক ছুটতে শুরু করেন। সংঘর্ষ চলাকালীন হাটের একাধিক পানের দোকান ও ছাউনি ভাঙচুর করার পাশাপাশি দুটি বড় গাছ কেটে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে।

সংঘর্ষের পরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, পলাশবাড়ী-ঘোড়াঘাট আঞ্চলিক মহাসড়ক পুরোপুরি দখল করে দুই পক্ষ অত্যন্ত মারমুখী অবস্থানে রয়েছে এবং একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় এক আতঙ্কজনক ও থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে রাজনৈতিক এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য স্থানীয় দুই পক্ষের কোনো দায়িত্বশীল নেতাকর্মীর সঙ্গেই তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ারে আলম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকালে দুই রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সংঘর্ষের সময় ককটেল বিস্ফোরণের যে দাবি স্থানীয়রা করছেন, সেই বিষয়টি ওসির পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

উল্লেখ্য, এই একই পানহাটির দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে গত ২০ মে-ও দুই পক্ষের মধ্যে এক দফায় মারাত্মক ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছিল। সেই দিনের সংঘর্ষের ঘটনায় প্রতিপক্ষের ছোঁড়া ইটের আঘাতে গুরুতর জখম হন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর পৌর শাখার অফিস সম্পাদক সামিউল। পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা সামিউল গত ৩০ মে রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে মারা যান। জামায়াত নেতার সেই হত্যাকাণ্ডের রেশ ও ক্ষোভ পুরোপুরি কাটতে না কাটতেই আজ সকালে আবারও দুই পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তায় নেমে এলাকাকে রণক্ষেত্রে পরিণত করল।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পলাশবাড়ীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ

সর্বশেষ আপডেট ০২:৩৩:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে স্থানীয় একটি হাটের আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পলাশবাড়ী পৌর শহরের ছোটশিমুলতলা পানহাটি এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। আকস্মিক এই সংঘাতের জেরে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ওই নির্দিষ্ট পানহাটির দখল ও নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র বিরোধ ও কোন্দল চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সকালে উভয় পক্ষের শত শত লোক লাঠিসোঁটা, দেশীয় অস্ত্র এবং ইট-পাটকেল নিয়ে প্রকাশ্য সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পলাশবাড়ী-ঘোড়াঘাট আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে দুই পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে অনবরত ইট মারতে থাকে। এ সময় বেশ কয়েকটি শক্তিশালী ককটেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আশপাশের পথচারী ও ব্যবসায়ীরা দিক-বিদিক ছুটতে শুরু করেন। সংঘর্ষ চলাকালীন হাটের একাধিক পানের দোকান ও ছাউনি ভাঙচুর করার পাশাপাশি দুটি বড় গাছ কেটে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে।

সংঘর্ষের পরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, পলাশবাড়ী-ঘোড়াঘাট আঞ্চলিক মহাসড়ক পুরোপুরি দখল করে দুই পক্ষ অত্যন্ত মারমুখী অবস্থানে রয়েছে এবং একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় এক আতঙ্কজনক ও থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে রাজনৈতিক এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য স্থানীয় দুই পক্ষের কোনো দায়িত্বশীল নেতাকর্মীর সঙ্গেই তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ারে আলম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকালে দুই রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সংঘর্ষের সময় ককটেল বিস্ফোরণের যে দাবি স্থানীয়রা করছেন, সেই বিষয়টি ওসির পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

উল্লেখ্য, এই একই পানহাটির দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে গত ২০ মে-ও দুই পক্ষের মধ্যে এক দফায় মারাত্মক ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছিল। সেই দিনের সংঘর্ষের ঘটনায় প্রতিপক্ষের ছোঁড়া ইটের আঘাতে গুরুতর জখম হন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর পৌর শাখার অফিস সম্পাদক সামিউল। পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা সামিউল গত ৩০ মে রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে মারা যান। জামায়াত নেতার সেই হত্যাকাণ্ডের রেশ ও ক্ষোভ পুরোপুরি কাটতে না কাটতেই আজ সকালে আবারও দুই পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তায় নেমে এলাকাকে রণক্ষেত্রে পরিণত করল।