পর্তুগালের ঐতিহ্যবাহী গ্রাম ও দুর্গ শহর ঘুরলেন প্রেসক্লাব সদস্যরা
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:১২:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
- / 20
পর্তুগালের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে দেশটির ঐতিহাসিক তালাসনাল গ্রাম ও অবিদোস শহর ভ্রমণ করেছেন পর্তুগাল বাংলা প্রেসক্লাবের সদস্যরা।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের পর্তুগালের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানাতে এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে আরও সম্পৃক্ত হওয়ার লক্ষ্যেই এ ভ্রমণের আয়োজন করা হয়। ভ্রমণকালে প্রেসক্লাবের সদস্যরা প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো তালাসনাল গ্রাম ও ঐতিহাসিক দুর্গনগরী অবিদোসের বিভিন্ন স্থাপনা ও দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখেন।
ভ্রমণ শেষে প্রেসক্লাব সদস্যদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন মজার খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রেসক্লাবের সভাপতি রাসেল আহমেদ বলেন, পর্তুগালের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে প্রেসক্লাবের সদস্যদের জানার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও এসব বিষয়ে জানার সুযোগ করে দিতে হবে। স্থানীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হলে পর্তুগিজ সমাজের সঙ্গে প্রবাসীদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।
ভ্রমণে অংশ নেন প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা সম্পাদক জাহিদ কায়সার, সাবেক সভাপতি রনি মোহাম্মদ, সাধারণ সম্পাদক শহীদ আহমদ প্রিন্স, সহসভাপতি আমিরুল ইসলাম নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ আল আসাদ, প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক আর এ ইহসান এবং সদস্য সজীব হোমরায়, শামীম আহমেদ, সেলিম আহমেদ ও শ্রাবণ।
অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ফাস্ট সলিউশনের খলিলুল্লাহ সাগর ও ইকবাল হোসেন কাঞ্চন।
ইতিহাস-ঐতিহ্যে তালাসনাল
পর্তুগালের মধ্যাঞ্চলের লুসা পর্বতমালায় অবস্থিত তালাসনাল গ্রামটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৬৭৯ সালে। স্থানীয় কালো স্লেট পাথরে তৈরি বাড়িঘর, সরু পাথুরে পথ এবং চারপাশের সবুজ পাহাড় ও বন গ্রামটিকে দিয়েছে অনন্য সৌন্দর্য।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে গ্রামটিতে প্রায় ১২৯ জন মানুষের বসবাস ছিল। সময়ের সঙ্গে অনেকেই গ্রাম ছেড়ে চলে গেলে ১৯৮১ সালে স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা নেমে আসে মাত্র দুজনে। বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী বাড়িগুলো পুনরুদ্ধার করে ক্যাফে ও গেস্টহাউস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্থানীয় সরাইখানায় ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পনিরের পাশাপাশি গ্রামটির প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। বিশেষ করে হাইকিং ও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে তালাসনাল বেশ জনপ্রিয়।
ঐতিহাসিক অবিদোস
লিসবন থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তরে পাহাড়ের ওপর অবস্থিত অবিদোস পর্তুগালের অন্যতম ঐতিহাসিক দুর্গনগরী। কেল্ট, রোমান, ভিসিগথ ও মুরদের শাসনের ইতিহাস পেরিয়ে ১১৪৮ সালে পর্তুগালের প্রথম রাজা আফনসো হেনরিকস মুরদের কাছ থেকে শহরটি পুনরুদ্ধার করেন।
ঐতিহাসিক দুর্গ, প্রাচীন স্থাপনা ও মনোরম পরিবেশের কারণে অবিদোস বর্তমানে পর্তুগালের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।



































