ঢাকা ০২:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিখোঁজের পর কলিকে খুঁজছিলেন অভিযুক্তরা, মিলল মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৪:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 57

নিখোঁজের পর কলিকে খুঁজছিলেন অভিযুক্তরা, মিলল মরদেহ

পাবনার সদর উপজেলার কুলোনিয়ায় স্কুলছাত্রী কামরুন্নাহার কলি (১০) হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, হত্যার আগে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। পরে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দি করে একটি ঘরের ভেতর রাখা হয়েছিল। এমনকি কলি নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অভিযুক্তরাও তাকে খুঁজতে বের হয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ।

পুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে মোস্তফা প্রামাণিক (৫৫) ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিনকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মোস্তফা তার দোকানে আসা নারীদের ছবি তুলে মোবাইলে সংরক্ষণ করতেন। কলি দোকানে কেনাকাটা করতে গেলে তারও একাধিক ছবি তোলা হয়। ঘটনার দিন মোস্তফা ও ইয়াছিন শিশুটিকে একটি ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং পরে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। এরপর মরদেহ বস্তাবন্দি করে ওই ঘরেই রাখা হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, কলি নিখোঁজ হওয়ার পর এলাকায় মানববন্ধনসহ ব্যাপক খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। এ সময় ওই ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে মরদেহটি বাইরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন অভিযুক্তরা। একপর্যায়ে কুকুরের তাড়া খেয়ে পাশের ঝোপে মরদেহটি ফেলে দেওয়া হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন।

পরে মরদেহ রাখা ঘরটি স্যাভলন দিয়ে পরিষ্কার করা হয় বলেও জানান পুলিশ সুপার। ঘটনার পর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশির পাশাপাশি ওই ঘরেও ডিবি পুলিশ তল্লাশি চালায়। একপর্যায়ে ঘরে স্যাভলনের গন্ধ ও মোস্তফার আচরণ পুলিশের সন্দেহের কারণ হয়। পরে মোস্তফা ও ইয়াছিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানান, আটক দুজনকে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হবে। তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।

পুলিশ জানায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় কামরুন্নাহার কলি। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধান করতে থাকেন।

নিখোঁজের সাত দিন পর বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়ায় কলির বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, মরদেহটি খণ্ডিত অবস্থায় ছিল।

আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নিখোঁজের পর কলিকে খুঁজছিলেন অভিযুক্তরা, মিলল মরদেহ

সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৪:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাবনার সদর উপজেলার কুলোনিয়ায় স্কুলছাত্রী কামরুন্নাহার কলি (১০) হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, হত্যার আগে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। পরে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দি করে একটি ঘরের ভেতর রাখা হয়েছিল। এমনকি কলি নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অভিযুক্তরাও তাকে খুঁজতে বের হয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ।

পুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে মোস্তফা প্রামাণিক (৫৫) ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিনকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মোস্তফা তার দোকানে আসা নারীদের ছবি তুলে মোবাইলে সংরক্ষণ করতেন। কলি দোকানে কেনাকাটা করতে গেলে তারও একাধিক ছবি তোলা হয়। ঘটনার দিন মোস্তফা ও ইয়াছিন শিশুটিকে একটি ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং পরে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। এরপর মরদেহ বস্তাবন্দি করে ওই ঘরেই রাখা হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, কলি নিখোঁজ হওয়ার পর এলাকায় মানববন্ধনসহ ব্যাপক খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। এ সময় ওই ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে মরদেহটি বাইরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন অভিযুক্তরা। একপর্যায়ে কুকুরের তাড়া খেয়ে পাশের ঝোপে মরদেহটি ফেলে দেওয়া হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন।

পরে মরদেহ রাখা ঘরটি স্যাভলন দিয়ে পরিষ্কার করা হয় বলেও জানান পুলিশ সুপার। ঘটনার পর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশির পাশাপাশি ওই ঘরেও ডিবি পুলিশ তল্লাশি চালায়। একপর্যায়ে ঘরে স্যাভলনের গন্ধ ও মোস্তফার আচরণ পুলিশের সন্দেহের কারণ হয়। পরে মোস্তফা ও ইয়াছিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানান, আটক দুজনকে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হবে। তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।

পুলিশ জানায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় কামরুন্নাহার কলি। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধান করতে থাকেন।

নিখোঁজের সাত দিন পর বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়ায় কলির বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, মরদেহটি খণ্ডিত অবস্থায় ছিল।

আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।