ঢাকা ০১:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন কিসওয়ায় আবৃত হলো কাবা শরিফ

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:১৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • / 27

কাবা শরিফে পরানো হলো নতুন গিলাফ

মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ের স্পন্দন পবিত্র কাবা শরিফে নতুন গিলাফ (কিসওয়া) স্থাপন করা হয়েছে। আরবি নববর্ষ ১৪৪৮ হিজরির পবিত্র সূচনালগ্নে এই গৌরবময় কাজটি সম্পন্ন হয়। গত সোমবার (১৫ জুন) স্থানীয় সময় এশার নামাজের পর মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে অত্যন্ত নিখুঁত ও আনুষ্ঠানিকভাবে কাবার গায়ে এই নতুন কিসওয়া উন্মোচন করা হয়।

সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী সাধারণত হজের মূল আনুষ্ঠানিকতার সময় কাবার গিলাফ পরিবর্তন করা হতো। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহররম মাসের শুরুতে তথা হিজরি নববর্ষের প্রথম প্রহরে এটি পরিবর্তনের একটি নতুন বৈশ্বিক রীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারও কাবার পুরোনো গিলাফটি অত্যন্ত যত্নসহকারে সরিয়ে সেখানে নতুন ও জমকালো কিসওয়া স্থাপন করা হয়। এই ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক মুহূর্তটি স্বচক্ষে অবলোকন করার জন্য পবিত্র মক্কায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজার হাজার সাধারণ মুসল্লি ও দর্শনার্থী হারাম শরিফে ভিড় জমান।

সৌদি আরবের আল জৌদ এলাকায় অবস্থিত বিশ্বখ্যাত ‘কিং আব্দুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর ম্যানুফ্যাকচারিং দ্য কাবা কিসওয়া’-তে সম্পূর্ণ নিজস্ব ও বিশেষ কারিগরি প্রক্রিয়ায় কাবার এই পবিত্র গিলাফ তৈরি করা হয়। প্রায় ১১ মাসের একটানা পরিশ্রমে শতাধিক অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ কারিগর এটি প্রস্তুত করেছেন। মোট সাতটি সুনির্দিষ্ট ও জটিল ধাপে এই বিশাল নির্মাণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

নতুন কিসওয়া তৈরিতে মূলত ৪৭ খণ্ড উচ্চমানের খাঁটি কালো রেশমি কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে। কাবার সৌন্দর্য বাড়াতে এর গায়ে পবিত্র কোরআনুল কারিমের গুরুত্বপূর্ণ ৬৮টি আয়াত স্বর্ণ ও রৌপ্যের উজ্জ্বল সুতার রাজকীয় ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গিলাফের এই ক্যালিগ্রাফি অলঙ্করণে প্রায় ১২০ কেজি ২৪ ক্যারেটের খাঁটি সোনা এবং ১০০ কেজি খাঁটি রুপা ব্যবহার করা হয়েছে। এই বিপুল উপাদানের কারণে পুরো গিলাফটির মোট ওজন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪১৫ কিলোগ্রাম।

গিলাফ পরিবর্তনের এই মহিমান্বিত অনুষ্ঠানে সৌদি রাজপরিবারের বিশেষ প্রতিনিধিসহ মসজিদুল হারামের ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গিলাফ পরিবর্তনের কাজ শেষ হওয়ার পর নতুন কিসওয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কাবা শরিফের আদি ও ঐতিহ্যবাহী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ইসলামের প্রাচীন নিয়ম অনুযায়ী, কাবা থেকে খুলে নেওয়া পুরোনো গিলাফটি ছোট ছোট অংশে নিখুঁতভাবে কেটে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ জাদুঘরগুলোতে স্মারক হিসেবে উপহার হিসেবে বিতরণ করা হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নতুন কিসওয়ায় আবৃত হলো কাবা শরিফ

সর্বশেষ আপডেট ১১:১৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ের স্পন্দন পবিত্র কাবা শরিফে নতুন গিলাফ (কিসওয়া) স্থাপন করা হয়েছে। আরবি নববর্ষ ১৪৪৮ হিজরির পবিত্র সূচনালগ্নে এই গৌরবময় কাজটি সম্পন্ন হয়। গত সোমবার (১৫ জুন) স্থানীয় সময় এশার নামাজের পর মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে অত্যন্ত নিখুঁত ও আনুষ্ঠানিকভাবে কাবার গায়ে এই নতুন কিসওয়া উন্মোচন করা হয়।

সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী সাধারণত হজের মূল আনুষ্ঠানিকতার সময় কাবার গিলাফ পরিবর্তন করা হতো। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহররম মাসের শুরুতে তথা হিজরি নববর্ষের প্রথম প্রহরে এটি পরিবর্তনের একটি নতুন বৈশ্বিক রীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারও কাবার পুরোনো গিলাফটি অত্যন্ত যত্নসহকারে সরিয়ে সেখানে নতুন ও জমকালো কিসওয়া স্থাপন করা হয়। এই ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক মুহূর্তটি স্বচক্ষে অবলোকন করার জন্য পবিত্র মক্কায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজার হাজার সাধারণ মুসল্লি ও দর্শনার্থী হারাম শরিফে ভিড় জমান।

সৌদি আরবের আল জৌদ এলাকায় অবস্থিত বিশ্বখ্যাত ‘কিং আব্দুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর ম্যানুফ্যাকচারিং দ্য কাবা কিসওয়া’-তে সম্পূর্ণ নিজস্ব ও বিশেষ কারিগরি প্রক্রিয়ায় কাবার এই পবিত্র গিলাফ তৈরি করা হয়। প্রায় ১১ মাসের একটানা পরিশ্রমে শতাধিক অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ কারিগর এটি প্রস্তুত করেছেন। মোট সাতটি সুনির্দিষ্ট ও জটিল ধাপে এই বিশাল নির্মাণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

নতুন কিসওয়া তৈরিতে মূলত ৪৭ খণ্ড উচ্চমানের খাঁটি কালো রেশমি কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে। কাবার সৌন্দর্য বাড়াতে এর গায়ে পবিত্র কোরআনুল কারিমের গুরুত্বপূর্ণ ৬৮টি আয়াত স্বর্ণ ও রৌপ্যের উজ্জ্বল সুতার রাজকীয় ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গিলাফের এই ক্যালিগ্রাফি অলঙ্করণে প্রায় ১২০ কেজি ২৪ ক্যারেটের খাঁটি সোনা এবং ১০০ কেজি খাঁটি রুপা ব্যবহার করা হয়েছে। এই বিপুল উপাদানের কারণে পুরো গিলাফটির মোট ওজন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪১৫ কিলোগ্রাম।

গিলাফ পরিবর্তনের এই মহিমান্বিত অনুষ্ঠানে সৌদি রাজপরিবারের বিশেষ প্রতিনিধিসহ মসজিদুল হারামের ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গিলাফ পরিবর্তনের কাজ শেষ হওয়ার পর নতুন কিসওয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কাবা শরিফের আদি ও ঐতিহ্যবাহী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ইসলামের প্রাচীন নিয়ম অনুযায়ী, কাবা থেকে খুলে নেওয়া পুরোনো গিলাফটি ছোট ছোট অংশে নিখুঁতভাবে কেটে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ জাদুঘরগুলোতে স্মারক হিসেবে উপহার হিসেবে বিতরণ করা হবে।