ঢাকা ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণ প্রজন্মকে বইমুখী করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩২:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 176

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

অমর একুশে বইমেলাকে শুধু কেনাবেচার আসর না ভেবে জ্ঞানচর্চা ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ‘অমর একুশে বইমেলা ও অনুষ্ঠানমালা ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বই কেবল পরীক্ষার প্রস্তুতির উপকরণ বা অবসরের সঙ্গী নয়। তাঁর ভাষায়, বই পড়া যেন মস্তিষ্কের জন্য এক ধরনের সঞ্চয়ভান্ডার—নিয়মিত পাঠ মানুষের স্মৃতিশক্তি ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

এমনকি আলজাইমার বা ডিমেনশিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি কমাতেও পাঠাভ্যাস ইতিবাচক ভূমিকা রাখে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে তরুণদের মধ্যে বাড়তে থাকা ইন্টারনেট নির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। অনলাইনে বই পড়া সম্ভব হলেও কাগজের পাতায় মুদ্রিত অক্ষরের যে মনোসংযোগ তৈরি হয়, সেটিকে আলাদা করে দেখেন প্রধানমন্ত্রী।

গবেষণার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহার শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও পড়াশোনার আগ্রহে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নতুন প্রজন্মকে বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট করার কার্যকর পথ খুঁজে বের করার ওপর জোর দেন তিনি।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ১০২ দেশের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাসে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম। দেশে গড়ে একজন মানুষ বছরে মাত্র তিনটি বই পড়েন—যা তিনি উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন।

এই বাস্তবতায় অমর একুশে বইমেলাকে আরও সক্রিয় ও প্রভাবশালী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ভবিষ্যতে বইমেলাকে ‘অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা’ হিসেবে আয়োজনের প্রস্তাবও দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এতে বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে দেশীয় পাঠকের সংযোগ বাড়বে, বহুভাষা ও বহুসংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

পাশাপাশি বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে কাজ শুরু করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

তরুণ প্রজন্মকে বইমুখী করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩২:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অমর একুশে বইমেলাকে শুধু কেনাবেচার আসর না ভেবে জ্ঞানচর্চা ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ‘অমর একুশে বইমেলা ও অনুষ্ঠানমালা ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বই কেবল পরীক্ষার প্রস্তুতির উপকরণ বা অবসরের সঙ্গী নয়। তাঁর ভাষায়, বই পড়া যেন মস্তিষ্কের জন্য এক ধরনের সঞ্চয়ভান্ডার—নিয়মিত পাঠ মানুষের স্মৃতিশক্তি ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

এমনকি আলজাইমার বা ডিমেনশিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি কমাতেও পাঠাভ্যাস ইতিবাচক ভূমিকা রাখে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে তরুণদের মধ্যে বাড়তে থাকা ইন্টারনেট নির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। অনলাইনে বই পড়া সম্ভব হলেও কাগজের পাতায় মুদ্রিত অক্ষরের যে মনোসংযোগ তৈরি হয়, সেটিকে আলাদা করে দেখেন প্রধানমন্ত্রী।

গবেষণার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহার শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও পড়াশোনার আগ্রহে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নতুন প্রজন্মকে বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট করার কার্যকর পথ খুঁজে বের করার ওপর জোর দেন তিনি।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ১০২ দেশের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাসে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম। দেশে গড়ে একজন মানুষ বছরে মাত্র তিনটি বই পড়েন—যা তিনি উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন।

এই বাস্তবতায় অমর একুশে বইমেলাকে আরও সক্রিয় ও প্রভাবশালী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ভবিষ্যতে বইমেলাকে ‘অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা’ হিসেবে আয়োজনের প্রস্তাবও দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এতে বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে দেশীয় পাঠকের সংযোগ বাড়বে, বহুভাষা ও বহুসংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

পাশাপাশি বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে কাজ শুরু করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।