শিক্ষক সমিতির প্রতিবাদ
ঢাবিতে প্রশাসনিক মবতন্ত্রের ধারাবাহিকতা চলছে
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:২০:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 54
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের নেওয়া তিন শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার ও তাঁদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। একই সঙ্গে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. শবনম জাহানের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনেরও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।
গত ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান, অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমানকে সাময়িক বহিষ্কার এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এক বিবৃতিতে শিক্ষক সমিতি বলেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং জ্ঞানচর্চা, বিভিন্ন মত, যুক্তি ও দর্শনের কেন্দ্রস্থল। ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩’ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হওয়ার কথা; রাষ্ট্রযন্ত্রের নির্দেশে নয়।
শিক্ষক সমিতির দাবি, ১৯৭৩-এর আদেশ অনুযায়ী কোনো তথ্যানুসন্ধান বা তদন্তের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে আত্মপক্ষ সমর্থন, নিজের বক্তব্য তুলে ধরা এবং অভিযোগকারীদের সঙ্গে সরাসরি বা মুখোমুখি আলোচনার মাধ্যমে অভিযোগ খণ্ডনের সুযোগ দিতে হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক তদন্ত কার্যক্রমে এসব নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ববর্তী অনির্বাচিত প্রশাসন মব সৃষ্টির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ উত্থাপন করেছিল। পরবর্তীতে এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্যানুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
শিক্ষক সমিতির অভিযোগ, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত তথ্যানুসন্ধান কমিটি কোনো সুনির্দিষ্ট উপসংহার বা সিদ্ধান্ত ছাড়াই প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই সিদ্ধান্তহীন প্রতিবেদনকে ভিত্তি করে পরবর্তী সময়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা সংগঠনটির মতে ‘চরম প্রহসনমূলক’।
তাদের ভাষ্য, তথ্যানুসন্ধান কমিটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করার পরই কেবল তার ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা যেতে পারে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ববর্তী ও বর্তমান প্রশাসন এ নীতিমালা অনুসরণ না করেই একের পর এক তদন্ত কমিটি গঠন করছে।
শিক্ষক সমিতি আরও অভিযোগ করেছে, এসব তথাকথিত তদন্ত কমিটিতে অভিযুক্ত শিক্ষক ও অভিযোগকারীদের মুখোমুখি করা, যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া কিংবা অভিযোগের তথ্য যাচাই ও প্রামাণিকতা নিশ্চিত করার মতো প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির সব সদস্যের উপস্থিতি ও মতামত নিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরির প্রক্রিয়াও যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযুক্ত শিক্ষকদের প্রতিনিধিকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়টি না জানিয়ে এবং স্বাক্ষর গ্রহণ ছাড়াই সিন্ডিকেটে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে এসব কমিটি প্রকৃত তদন্ত কমিটি নয়, বরং ‘ফরমায়েশি কমিটি’ হিসেবে কাজ করছে বলে দাবি করেছে শিক্ষক সমিতি।
সংগঠনটির অভিযোগ, এসব তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট একের পর এক শিক্ষক বরখাস্তের যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে, তা প্রশাসনিক ‘মবতন্ত্রের’ই ধারাবাহিকতা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে ১৯৭৩-এর আদেশ লঙ্ঘন করে শিক্ষক নিপীড়নের একটি নিম্নমানের রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালুর অভিযোগ তুলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শিক্ষক সমিতি।
একই সঙ্গে অস্বচ্ছ ও জবাবদিহিতাহীন তথাকথিত তদন্ত কমিটি বাতিল করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ভীতির পরিবেশের অবসান এবং শিক্ষকদের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শিক্ষক সমিতি বলেছে, দমন, পীড়ন ও বহিষ্কার নয়; বরং মেধার বিকাশ, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চাকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রমের কেন্দ্রে রাখা উচিত।





























