ঢাকা ০৬:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের হুমকিতে সুইজারল্যান্ডের বৈঠক বয়কট করেছে ইরান

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪৩:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
  • / 14

প্রতীকী ছবি : বাংলা অ্যাফেয়ার্স

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনার মাঝেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিমূলক বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে বৈঠক ত্যাগ করে ইরানের প্রতিনিধি দল। এমন দাবি করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষ আলোচনার মাঝপথে বৈঠক থেকে বেরিয়ে যায় ইরানের প্রতিনিধি দল। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও আলোচক দলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দাবি করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিমূলক মন্তব্যের কারণেই তারা বৈঠক ত্যাগ করেন।

ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ইরান শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে না বসার অবস্থান বজায় রেখেছিল।

গালিবাফ বলেন, “আমাদের নিজস্ব নীতি রয়েছে। আমরা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একই টেবিলে সরাসরি আলোচনায় বসতে চাইনি।”

তার ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারীরা বৈঠকটিকে আলোচনা শুরুর পদক্ষেপ হিসেবে দেখাতে চাইলেও ইরান স্পষ্ট করে দেয় যে তারা কেবল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা করবে, সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নয়।

গালিবাফ জানান, আলোচনার একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন যে ট্রাম্প ইরানের প্রেসিডেন্ট, আলোচক দল এবং ইরানের ভূখণ্ড নিয়ে হুমকিমূলক মন্তব্য করেছেন। এরপর তিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেন।

তিনি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা অনুযায়ী হুমকি বা শক্তি প্রয়োগ নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু ট্রাম্পের বক্তব্য সেই সমঝোতার পরিপন্থী।

“আমি ভ্যান্সকে বলেছি, আমরা আলোচনায় আছি। অথচ আপনাদের প্রেসিডেন্ট হুমকি দিচ্ছেন। হুমকি বা জোরজবরদস্তির মুখে আমরা কখনো আলোচনা করি না,” বলেন গালিবাফ।

এরপরই ইরানি প্রতিনিধি দল বৈঠক শেষ করে স্থান ত্যাগ করে এবং আর ফিরে যায়নি বলে জানান তিনি।

গালিবাফের দাবি, পরে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে আরেকটি বৈঠকের প্রস্তাব দিলেও তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করে। পরবর্তীতে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় ৮০ মিনিট আলোচনা করেন।

এদিকে রোববার ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানকে সতর্ক করে বলেন, লেবাননে তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা হলে কঠিন পরিণতির হুঁশিয়ারি দেন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের প্রতিও কড়া মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ১৪ দফা সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দেয়। ‘ইসলামাবাদ আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ নামে পরিচিত ওই সমঝোতা ১৮ জুন কার্যকর হয়। এতে যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ট্রাম্পের হুমকিতে সুইজারল্যান্ডের বৈঠক বয়কট করেছে ইরান

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪৩:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনার মাঝেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিমূলক বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে বৈঠক ত্যাগ করে ইরানের প্রতিনিধি দল। এমন দাবি করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষ আলোচনার মাঝপথে বৈঠক থেকে বেরিয়ে যায় ইরানের প্রতিনিধি দল। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও আলোচক দলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দাবি করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিমূলক মন্তব্যের কারণেই তারা বৈঠক ত্যাগ করেন।

ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ইরান শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে না বসার অবস্থান বজায় রেখেছিল।

গালিবাফ বলেন, “আমাদের নিজস্ব নীতি রয়েছে। আমরা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একই টেবিলে সরাসরি আলোচনায় বসতে চাইনি।”

তার ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারীরা বৈঠকটিকে আলোচনা শুরুর পদক্ষেপ হিসেবে দেখাতে চাইলেও ইরান স্পষ্ট করে দেয় যে তারা কেবল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা করবে, সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নয়।

গালিবাফ জানান, আলোচনার একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন যে ট্রাম্প ইরানের প্রেসিডেন্ট, আলোচক দল এবং ইরানের ভূখণ্ড নিয়ে হুমকিমূলক মন্তব্য করেছেন। এরপর তিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেন।

তিনি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা অনুযায়ী হুমকি বা শক্তি প্রয়োগ নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু ট্রাম্পের বক্তব্য সেই সমঝোতার পরিপন্থী।

“আমি ভ্যান্সকে বলেছি, আমরা আলোচনায় আছি। অথচ আপনাদের প্রেসিডেন্ট হুমকি দিচ্ছেন। হুমকি বা জোরজবরদস্তির মুখে আমরা কখনো আলোচনা করি না,” বলেন গালিবাফ।

এরপরই ইরানি প্রতিনিধি দল বৈঠক শেষ করে স্থান ত্যাগ করে এবং আর ফিরে যায়নি বলে জানান তিনি।

গালিবাফের দাবি, পরে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে আরেকটি বৈঠকের প্রস্তাব দিলেও তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করে। পরবর্তীতে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় ৮০ মিনিট আলোচনা করেন।

এদিকে রোববার ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানকে সতর্ক করে বলেন, লেবাননে তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা হলে কঠিন পরিণতির হুঁশিয়ারি দেন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের প্রতিও কড়া মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ১৪ দফা সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দেয়। ‘ইসলামাবাদ আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ নামে পরিচিত ওই সমঝোতা ১৮ জুন কার্যকর হয়। এতে যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।