ঢাকা ০৩:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা বর্ষণে কক্সবাজারে মৃত্যুমিছিল

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:১৭:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • / 11

ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে নেমে এসেছে মৃত্যুর মিছিল। এক রাতেই পৃথক চারটি পাহাড়ধসের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন। এর মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে নিহত হয়েছেন ৮ জন এবং কক্সবাজার শহরে মারা গেছেন আরও একজন। রবিবার (৫ জুলাই) রাত থেকে সোমবার (৬ জুলাই) ভোর পর্যন্ত চলা ভারী বর্ষণের মধ্যে এসব মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়ে একটি বসতঘরের ওপর। ঘটনাস্থল থেকেই উদ্ধার করা হয় রোহিঙ্গা মোহাম্মদ কামাল হোসাইন, তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম এবং ছেলে মোহাম্মদ আনাসের মরদেহ।

এর কিছুক্ষণ পর ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে একরাম নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রবল বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢল আচমকা ক্যাম্পে নেমে আসে।

রাত ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-১১ ব্লকে আবারও পাহাড়ধস। এতে নারী ও শিশুসহ চারজন নিহত হন। নিহতরা হলেন- উম্মে হাবিবা, তানজিনা আক্তার, মোহাম্মদ রিহান ও হারুনুর রশিদ।

শুধু রোহিঙ্গা ক্যাম্পই নয়, কক্সবাজার শহরেও প্রাণ কেড়েছে পাহাড়ধস। সোমবার ভোর ৪টার কিছু পর শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে একই পরিবারের তিনজন চাপা পড়েন। স্থানীয়দের উদ্ধার অভিযানে তিনজনকে বের করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও আলী আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কক্সবাজারসহ উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি আরও অন্তত দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পাহাড়ঘেঁষা ঝুঁকিপূর্ণ বসতি, বিশেষ করে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

 

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

টানা বর্ষণে কক্সবাজারে মৃত্যুমিছিল

সর্বশেষ আপডেট ১২:১৭:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে নেমে এসেছে মৃত্যুর মিছিল। এক রাতেই পৃথক চারটি পাহাড়ধসের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন। এর মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে নিহত হয়েছেন ৮ জন এবং কক্সবাজার শহরে মারা গেছেন আরও একজন। রবিবার (৫ জুলাই) রাত থেকে সোমবার (৬ জুলাই) ভোর পর্যন্ত চলা ভারী বর্ষণের মধ্যে এসব মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়ে একটি বসতঘরের ওপর। ঘটনাস্থল থেকেই উদ্ধার করা হয় রোহিঙ্গা মোহাম্মদ কামাল হোসাইন, তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম এবং ছেলে মোহাম্মদ আনাসের মরদেহ।

এর কিছুক্ষণ পর ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে একরাম নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রবল বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢল আচমকা ক্যাম্পে নেমে আসে।

রাত ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-১১ ব্লকে আবারও পাহাড়ধস। এতে নারী ও শিশুসহ চারজন নিহত হন। নিহতরা হলেন- উম্মে হাবিবা, তানজিনা আক্তার, মোহাম্মদ রিহান ও হারুনুর রশিদ।

শুধু রোহিঙ্গা ক্যাম্পই নয়, কক্সবাজার শহরেও প্রাণ কেড়েছে পাহাড়ধস। সোমবার ভোর ৪টার কিছু পর শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে একই পরিবারের তিনজন চাপা পড়েন। স্থানীয়দের উদ্ধার অভিযানে তিনজনকে বের করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও আলী আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কক্সবাজারসহ উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি আরও অন্তত দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পাহাড়ঘেঁষা ঝুঁকিপূর্ণ বসতি, বিশেষ করে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।