কেন বাড়ছে লোডশেডিং? ব্যাখ্যা দিলেন বিদ্যুৎমন্ত্রী
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
- / 140
কারিগরি ত্রুটি ও সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশের বড় দুটি প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে আকস্মিকভাবে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই বিশাল ঘাটতির কারণেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র লোডশেডিং দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
গতকাল রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক জরুরি বিবৃতিতে মন্ত্রী বিদ্যুৎ সংকটের এই প্রকৃত কারণ ব্যাখ্যা করেন।
সংসদে দেওয়া বিবৃতিতে বিদ্যুৎমন্ত্রী জানান, বন্ধ থাকা দুটি কেন্দ্রের মধ্যে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারের ভেতরের টিউবে হঠাৎ লিকেজ (ছিদ্র) দেখা দেওয়ায় সেটিতে উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হয়েছে। অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগর প্রচণ্ড উত্তাল থাকায় গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত মাদার ভেসেল (বড় জাহাজ) থেকে লাইটার জাহাজে কয়লা খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জ্বালানি সংকটে পড়ে দ্বিতীয় আরেকটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও তাদের উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি বলেন, এই দুই মেগা বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় একযোগে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে গেছে। ফলে বাধ্য হয়েই দেশের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকার পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাতেও লোডশেডিংয়ের মাত্রা বাড়াতে হচ্ছে। তবে কারিগরি মেরামত কাজ দ্রুত গতিতে চলছে এবং আগামী দুই দিনের মধ্যে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী আরও জানান, উদ্ভূত এই আকস্মিক লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়ে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সঙ্গে তাঁর বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। চলমান এই বিদ্যুৎ পরিস্থিতিকে একটি সাময়িক ‘জাতীয় সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী দেশের সাধারণ জনগণ এবং সংসদের সরকারি ও বিরোধী দলের সব সদস্যকে ধৈর্য ধারণ করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
তবে কৌশলগত ও সুরক্ষার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া সুনির্দিষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটির নাম বা অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী।





























