ঢাকা ০২:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাপড়ের আড়ালে ৫ কোটি টাকার ফোন আমদানি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:২৬:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 25

কাপড়ের আড়ালে ৫ কোটি টাকার ফোন আমদানি

চট্টগ্রাম ইপিজেডের বন্ধ একটি প্রতিষ্ঠানের নামে কাপড়ের রোলের আড়ালে হংকং থেকে ঢাকায় আনা হয়েছে ১ হাজার ৬৫৫টি মোবাইল ফোন। এসব মোবাইল ফোনের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। চালানটি আটক করার পর এ ঘটনায় মামলা করেছে শুল্ক গোয়েন্দা।

বেপজার তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম ইপিজেডের প্রতিষ্ঠান থিয়ানিস অ্যাপারেলস ২০২৫ সালের মে মাস থেকেই বন্ধ। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির আমদানি অনুমোদন নম্বরও বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটি নিলামে বিক্রি হয়ে যায়। এমন অবস্থায় থিয়ানিস অ্যাপারেলসের নাম ব্যবহার করে হংকং থেকে চালানটি আমদানি করা হয়।

বেপজার অনুমতি ছাড়া ইপিজেড থেকে কোনো পণ্য খালাসের সুযোগ নেই। তবে এই চালানের ক্ষেত্রে ইপিজেডের আরও দুটি প্রতিষ্ঠান ইয়ং ওয়ান ও রিজেন্সির পুরোনো আইপি নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

ঘটনার অনুসন্ধানে সিএন্ডএফ এজেন্ট ইউ কে ডোরিনের নামও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্বীকার করলেও ক্যামেরার সামনে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি বেপজা।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ইউ কে ডোরিনের কার্যালয়টি প্রায় তিন বছর আগেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ওই কার্যালয়ের বাড়িভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়নি বলে জানান বাড়ির মালিক আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, প্রায় দুই থেকে তিন বছর আগে প্রতিষ্ঠানটি অফিস ছেড়ে চলে যায়। পরে বিদ্যুৎ মিটারের ১২ হাজার টাকা নিজেদের পকেট থেকে পরিশোধ করতে হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, জালিয়াতির উদ্দেশ্যে থিয়ানিস অ্যাপারেলসের নামে একটি নকল প্যাড তৈরি করা হয়। ওই প্যাডে তানভির আহমেদ নিজেকে প্রতিষ্ঠানটির কমার্শিয়াল ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দেন। এ কাজে তার সহযোগী হিসেবে জেটি সরকার রুহুল আমিনের নামও উঠে এসেছে। তবে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তানভির আহমেদ সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

ইউ কে ডোরিনের স্বত্বাধিকারী তানভির আহমেদ বলেন, তাকে ফোন করা হয়নি। ইলিয়াস নামে একজন তাকে ফোন করেছিলেন বলে কর্মচারীর কাছ থেকে জানতে পেরেছেন। বিভিন্ন বিভাগ থেকে তাদের কাছে নিয়মিত ফোন আসে বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১ তারিখের পর ডকুমেন্টারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং আগস্টের শুরুতে একটি পণ্য চালান খালাস করা হয়েছে।

এ বিষয়ে থিয়ানিস অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুর রহমান খান বলেন, প্রতিষ্ঠানটির নামে একটি প্যাড নকল করা হয়েছে। ওই প্যাড তাদের প্রতিষ্ঠানের নয়। তার দাবি, তানভির আহমেদ ইউ কে ডোরিনের মালিক হলেও থিয়ানিস অ্যাপারেলসে কখনো কমার্শিয়াল ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেননি এবং তানভির আহমেদ নামে তাদের প্রতিষ্ঠানে কেউ চাকরিও করেননি।

আনিসুর রহমান খান আরও বলেন, বেপজার সঙ্গে তাদের একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। তাকে হয়রানি বা বেকায়দায় ফেলতে কেউ এমন ঘটনা ঘটিয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

এ ঘটনায় শুল্ক গোয়েন্দা মামলা করেছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকা থেকে চালানটি আটক করা হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কাপড়ের আড়ালে ৫ কোটি টাকার ফোন আমদানি

সর্বশেষ আপডেট ০১:২৬:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম ইপিজেডের বন্ধ একটি প্রতিষ্ঠানের নামে কাপড়ের রোলের আড়ালে হংকং থেকে ঢাকায় আনা হয়েছে ১ হাজার ৬৫৫টি মোবাইল ফোন। এসব মোবাইল ফোনের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। চালানটি আটক করার পর এ ঘটনায় মামলা করেছে শুল্ক গোয়েন্দা।

বেপজার তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম ইপিজেডের প্রতিষ্ঠান থিয়ানিস অ্যাপারেলস ২০২৫ সালের মে মাস থেকেই বন্ধ। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির আমদানি অনুমোদন নম্বরও বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটি নিলামে বিক্রি হয়ে যায়। এমন অবস্থায় থিয়ানিস অ্যাপারেলসের নাম ব্যবহার করে হংকং থেকে চালানটি আমদানি করা হয়।

বেপজার অনুমতি ছাড়া ইপিজেড থেকে কোনো পণ্য খালাসের সুযোগ নেই। তবে এই চালানের ক্ষেত্রে ইপিজেডের আরও দুটি প্রতিষ্ঠান ইয়ং ওয়ান ও রিজেন্সির পুরোনো আইপি নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

ঘটনার অনুসন্ধানে সিএন্ডএফ এজেন্ট ইউ কে ডোরিনের নামও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্বীকার করলেও ক্যামেরার সামনে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি বেপজা।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ইউ কে ডোরিনের কার্যালয়টি প্রায় তিন বছর আগেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ওই কার্যালয়ের বাড়িভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়নি বলে জানান বাড়ির মালিক আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, প্রায় দুই থেকে তিন বছর আগে প্রতিষ্ঠানটি অফিস ছেড়ে চলে যায়। পরে বিদ্যুৎ মিটারের ১২ হাজার টাকা নিজেদের পকেট থেকে পরিশোধ করতে হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, জালিয়াতির উদ্দেশ্যে থিয়ানিস অ্যাপারেলসের নামে একটি নকল প্যাড তৈরি করা হয়। ওই প্যাডে তানভির আহমেদ নিজেকে প্রতিষ্ঠানটির কমার্শিয়াল ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দেন। এ কাজে তার সহযোগী হিসেবে জেটি সরকার রুহুল আমিনের নামও উঠে এসেছে। তবে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তানভির আহমেদ সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

ইউ কে ডোরিনের স্বত্বাধিকারী তানভির আহমেদ বলেন, তাকে ফোন করা হয়নি। ইলিয়াস নামে একজন তাকে ফোন করেছিলেন বলে কর্মচারীর কাছ থেকে জানতে পেরেছেন। বিভিন্ন বিভাগ থেকে তাদের কাছে নিয়মিত ফোন আসে বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১ তারিখের পর ডকুমেন্টারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং আগস্টের শুরুতে একটি পণ্য চালান খালাস করা হয়েছে।

এ বিষয়ে থিয়ানিস অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুর রহমান খান বলেন, প্রতিষ্ঠানটির নামে একটি প্যাড নকল করা হয়েছে। ওই প্যাড তাদের প্রতিষ্ঠানের নয়। তার দাবি, তানভির আহমেদ ইউ কে ডোরিনের মালিক হলেও থিয়ানিস অ্যাপারেলসে কখনো কমার্শিয়াল ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেননি এবং তানভির আহমেদ নামে তাদের প্রতিষ্ঠানে কেউ চাকরিও করেননি।

আনিসুর রহমান খান আরও বলেন, বেপজার সঙ্গে তাদের একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। তাকে হয়রানি বা বেকায়দায় ফেলতে কেউ এমন ঘটনা ঘটিয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

এ ঘটনায় শুল্ক গোয়েন্দা মামলা করেছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকা থেকে চালানটি আটক করা হয়।