ঢাকা ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এলডিসি উত্তরণে আরও ৩ বছরের প্রস্তুতিকাল চায় সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪৯:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • / 8

ছবি সংগৃহীত

এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া বিলম্বিত নয়, বরং টেকসই ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়াতে চায় সরকার বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর উদ্যোগকে বিলম্বের কৌশল নয়, বরং একটি টেকসই অর্থনৈতিক রূপান্তরের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘Bangladesh’s Preparedness for LDC Graduation and the Rationale for Extension of the Preparatory Period’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সেমিনারের আয়োজন করে।

মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যের অস্থিরতা, ভূরাজনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্নসহ নানা চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এসব বাস্তবতায় সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি শক্তিশালী করাই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

তিনি জানান, এ কারণেই সরকার জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)-এর কাছে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর আবেদন করেছে। সিডিপি ইতোমধ্যে এ বিষয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন করে প্রতিবেদন ইকোসক-এর কাছে জমা দিয়েছে। পরবর্তী ধাপে বিষয়টি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হতে পারে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ২৫টি অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার কর্মসূচির রোডম্যাপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংস্কার, ব্যবসা সহজীকরণ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ বিকাশ।

তিনি আরও জানান, ব্যবসা শুরু করতে বর্তমানে যে দীর্ঘ সময় লাগে, তা কমিয়ে ১৪ দিনে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার জটিলতা দূর করে ব্যবসার সময় ও ব্যয় কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

সেমিনারে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন অংশীদারদের ধারাবাহিক সমর্থন প্রয়োজন।

এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বাংলাদেশের সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্য সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ রয়েছে, তবে বাজার উন্মুক্তকরণ ও সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

সেমিনারে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, উন্নয়ন সহযোগী, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, গবেষক এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এলডিসি উত্তরণে আরও ৩ বছরের প্রস্তুতিকাল চায় সরকার

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪৯:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া বিলম্বিত নয়, বরং টেকসই ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়াতে চায় সরকার বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর উদ্যোগকে বিলম্বের কৌশল নয়, বরং একটি টেকসই অর্থনৈতিক রূপান্তরের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘Bangladesh’s Preparedness for LDC Graduation and the Rationale for Extension of the Preparatory Period’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সেমিনারের আয়োজন করে।

মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যের অস্থিরতা, ভূরাজনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্নসহ নানা চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এসব বাস্তবতায় সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি শক্তিশালী করাই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

তিনি জানান, এ কারণেই সরকার জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)-এর কাছে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর আবেদন করেছে। সিডিপি ইতোমধ্যে এ বিষয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন করে প্রতিবেদন ইকোসক-এর কাছে জমা দিয়েছে। পরবর্তী ধাপে বিষয়টি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হতে পারে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ২৫টি অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার কর্মসূচির রোডম্যাপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংস্কার, ব্যবসা সহজীকরণ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ বিকাশ।

তিনি আরও জানান, ব্যবসা শুরু করতে বর্তমানে যে দীর্ঘ সময় লাগে, তা কমিয়ে ১৪ দিনে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার জটিলতা দূর করে ব্যবসার সময় ও ব্যয় কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

সেমিনারে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন অংশীদারদের ধারাবাহিক সমর্থন প্রয়োজন।

এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বাংলাদেশের সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্য সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ রয়েছে, তবে বাজার উন্মুক্তকরণ ও সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

সেমিনারে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, উন্নয়ন সহযোগী, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, গবেষক এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।