ঢাকা ০৯:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এ বছরের মধ্যেই নবম পে-স্কেল: অর্থমন্ত্রী

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:১০:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 16

এ বছরের মধ্যেই নবম পে-স্কেল: অর্থমন্ত্রী

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল চলতি বছরের মধ্যেই ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, পে-স্কেল নিয়ে সরকারের আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সব বিষয় পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) অর্থ মন্ত্রণালয়ে বিচারকদের পে-স্কেল পর্যালোচনা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের মধ্যেই নবম পে-স্কেল হবে। তবে এটি বাস্তবায়নের আগে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। একটি দিক নিয়ে আজ আলোচনা হয়েছে, পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

এর আগে রোববার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবও নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, পে-স্কেল প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। চলতি অর্থবছরের মধ্যেই এটি বাস্তবায়নের আশাও প্রকাশ করেন তিনি।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অর্থনৈতিক চাপ ও বিচার বিভাগের বেতন কাঠামো নিয়ে জটিলতার কারণে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য সাত সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

নবম জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের কথা জানিয়েছিলেন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। একই সঙ্গে সুপারিশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠনের কথাও বলা হয়েছিল।

তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন দেখা দেয়। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি ও নিত্যপণ্য আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকারের আর্থিক চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পে-স্কেল বাস্তবায়নের অর্থের সংস্থান নিয়েও আলোচনা চলছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সময়ও বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের পর দীর্ঘ বিরতিতে গত বছর নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। গত ২১ জানুয়ারি কমিশন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

কমিশনের হিসাবে, সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এ বছরের মধ্যেই নবম পে-স্কেল: অর্থমন্ত্রী

সর্বশেষ আপডেট ০৫:১০:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল চলতি বছরের মধ্যেই ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, পে-স্কেল নিয়ে সরকারের আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সব বিষয় পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) অর্থ মন্ত্রণালয়ে বিচারকদের পে-স্কেল পর্যালোচনা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের মধ্যেই নবম পে-স্কেল হবে। তবে এটি বাস্তবায়নের আগে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। একটি দিক নিয়ে আজ আলোচনা হয়েছে, পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

এর আগে রোববার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবও নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, পে-স্কেল প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। চলতি অর্থবছরের মধ্যেই এটি বাস্তবায়নের আশাও প্রকাশ করেন তিনি।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অর্থনৈতিক চাপ ও বিচার বিভাগের বেতন কাঠামো নিয়ে জটিলতার কারণে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য সাত সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

নবম জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের কথা জানিয়েছিলেন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। একই সঙ্গে সুপারিশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠনের কথাও বলা হয়েছিল।

তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন দেখা দেয়। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি ও নিত্যপণ্য আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকারের আর্থিক চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পে-স্কেল বাস্তবায়নের অর্থের সংস্থান নিয়েও আলোচনা চলছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সময়ও বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের পর দীর্ঘ বিরতিতে গত বছর নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। গত ২১ জানুয়ারি কমিশন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

কমিশনের হিসাবে, সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।