ঢাকা ০১:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উজানের ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি, তিন বিভাগে বন্যা সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:০৩:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • / 15

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের সতর্কবার্তা

ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এ অবস্থায় তিস্তাপাড়ে বন্যা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সময়ে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী বর্ষণের কারণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রধান নদীগুলোর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এর প্রভাব পড়েছে তিস্তা অববাহিকায়। লালমনিরহাটসহ তিস্তাপাড়ের চর ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে বন্যা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

সোমবার বিকেলে ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর আগের দিন পানি বিপদসীমার মাত্র ১৫ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। যদিও বর্তমানে কিছুটা কমেছে, তবে উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েক দিনে পানি আবারও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, তিস্তার পানি এখনো বিপদসীমার নিচে থাকলেও পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার রায় বলেন, তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি এখনো বিপদসীমা অতিক্রম করেনি, তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণকক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে ভারতের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারী মৌসুমি বৃষ্টির কারণে প্রধান নদ-নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশের সিলেট, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের নিচু এলাকাগুলো স্বল্পমেয়াদি বন্যার মুখোমুখি হতে পারে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশকে রিয়েল-টাইম বন্যা ও নদীর পানি সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা এবং অন্যান্য অভিন্ন নদীর বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পানির স্তর, প্রবাহ, বৃষ্টিপাত ও পূর্বাভাস-সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত আদান-প্রদান করা হচ্ছে। এসব তথ্য বন্যা পূর্বাভাস, আগাম সতর্কতা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ অংশে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হলেও ভারতের জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং অঞ্চলে টানা বর্ষণের কারণে উজানের নদীগুলো ফুলে-ফেঁপে উঠেছে। ডালিয়া ব্যারাজ থেকে মাত্র ৬৮ কিলোমিটার উজানে অবস্থিত ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারা বলছেন, ভারতের উজানে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলেই তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে। আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের কৃষক মতিউর রহমান বলেন, উজানে বন্যা হলে তিস্তা অববাহিকার মানুষ সবসময় শঙ্কায় থাকে। অন্যদিকে স্থানীয় কৃষক শহীদার রহমান তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তব অগ্রগতি খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।

এদিকে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর এলাকায় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধের একটি অংশে ধসের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

উজানের ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি, তিন বিভাগে বন্যা সতর্কতা

সর্বশেষ আপডেট ১১:০৩:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এ অবস্থায় তিস্তাপাড়ে বন্যা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সময়ে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী বর্ষণের কারণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রধান নদীগুলোর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এর প্রভাব পড়েছে তিস্তা অববাহিকায়। লালমনিরহাটসহ তিস্তাপাড়ের চর ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে বন্যা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

সোমবার বিকেলে ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর আগের দিন পানি বিপদসীমার মাত্র ১৫ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। যদিও বর্তমানে কিছুটা কমেছে, তবে উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েক দিনে পানি আবারও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, তিস্তার পানি এখনো বিপদসীমার নিচে থাকলেও পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার রায় বলেন, তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি এখনো বিপদসীমা অতিক্রম করেনি, তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণকক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে ভারতের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারী মৌসুমি বৃষ্টির কারণে প্রধান নদ-নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশের সিলেট, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের নিচু এলাকাগুলো স্বল্পমেয়াদি বন্যার মুখোমুখি হতে পারে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশকে রিয়েল-টাইম বন্যা ও নদীর পানি সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা এবং অন্যান্য অভিন্ন নদীর বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পানির স্তর, প্রবাহ, বৃষ্টিপাত ও পূর্বাভাস-সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত আদান-প্রদান করা হচ্ছে। এসব তথ্য বন্যা পূর্বাভাস, আগাম সতর্কতা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ অংশে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হলেও ভারতের জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং অঞ্চলে টানা বর্ষণের কারণে উজানের নদীগুলো ফুলে-ফেঁপে উঠেছে। ডালিয়া ব্যারাজ থেকে মাত্র ৬৮ কিলোমিটার উজানে অবস্থিত ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারা বলছেন, ভারতের উজানে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলেই তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে। আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের কৃষক মতিউর রহমান বলেন, উজানে বন্যা হলে তিস্তা অববাহিকার মানুষ সবসময় শঙ্কায় থাকে। অন্যদিকে স্থানীয় কৃষক শহীদার রহমান তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তব অগ্রগতি খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।

এদিকে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর এলাকায় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধের একটি অংশে ধসের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।