ঢাকা ০৭:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ইরানকে নিশ্চিহ্ন করব’: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫৪:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • / 29

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে নাজুক যুদ্ধবিরতি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সংঘাত আবার পূর্ণমাত্রায় শুরু হলে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের অস্তিত্ব থাকবে না’।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালানোর পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

এ ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র ‘অসমাপ্ত কাজ শেষ করবে’। তাঁর ভাষায়, যদি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়, তবে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।’

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেন, যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের জবাবে মার্কিন বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার, উপকূলীয় রাডার এবং সামরিক স্থাপনায় সফল হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে অন্তর্বর্তী চুক্তির লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের দাবি, ওয়াশিংটন নিজের প্রতিশ্রুতির প্রতি কোনো সম্মান দেখাচ্ছে না।

এর কয়েক ঘণ্টা পর আইআরজিসি জানায়, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান চালানো হয়েছে। কুয়েতের সেনাবাহিনীও দেশটির আকাশে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহতের কথা নিশ্চিত করেছে। বাহরাইনেও সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয় এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের নজরদারি ব্যবস্থা, যোগাযোগ অবকাঠামো, বিমান প্রতিরক্ষা, ড্রোন ঘাঁটি ও নৌ-মাইন স্থাপনের সক্ষমতা লক্ষ্য করে মোট ১০টি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে।

ওয়াশিংটনের দাবি, পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ কিকু-তে ইরানের ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ভেস্তে গেলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

‘ইরানকে নিশ্চিহ্ন করব’: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫৪:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে নাজুক যুদ্ধবিরতি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সংঘাত আবার পূর্ণমাত্রায় শুরু হলে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের অস্তিত্ব থাকবে না’।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালানোর পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

এ ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র ‘অসমাপ্ত কাজ শেষ করবে’। তাঁর ভাষায়, যদি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়, তবে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।’

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেন, যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের জবাবে মার্কিন বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার, উপকূলীয় রাডার এবং সামরিক স্থাপনায় সফল হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে অন্তর্বর্তী চুক্তির লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের দাবি, ওয়াশিংটন নিজের প্রতিশ্রুতির প্রতি কোনো সম্মান দেখাচ্ছে না।

এর কয়েক ঘণ্টা পর আইআরজিসি জানায়, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান চালানো হয়েছে। কুয়েতের সেনাবাহিনীও দেশটির আকাশে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহতের কথা নিশ্চিত করেছে। বাহরাইনেও সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয় এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের নজরদারি ব্যবস্থা, যোগাযোগ অবকাঠামো, বিমান প্রতিরক্ষা, ড্রোন ঘাঁটি ও নৌ-মাইন স্থাপনের সক্ষমতা লক্ষ্য করে মোট ১০টি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে।

ওয়াশিংটনের দাবি, পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ কিকু-তে ইরানের ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ভেস্তে গেলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে।