ঢাকা ০৭:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাজেটে যাকাত নেই, সুদ ভিত্তিক অর্থনীতি বাতিলের দাবি জামায়াত এমপির

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৫৯:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • / 10

জামায়াতে ইসলামীর জামায়াত সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ‘যাকাত’ শব্দের উল্লেখ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি সুদভিত্তিক অর্থনীতি বাতিল করে যাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ প্রত্যাহার এবং মদ-বিড়িসহ নেশাজাতীয় দ্রব্য নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন।

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ‘যাকাত’ শব্দের উল্লেখ না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি বলেছেন, সুদভিত্তিক অর্থনীতি দেশের জন্য ক্ষতিকর। এর পরিবর্তে যাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করলে বাজেট ঘাটতি পূরণ এবং দারিদ্র্য কমানো সম্ভব।

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বাজেটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অপচয় রোধের কথা থাকলেও যাকাতের কোনো উল্লেখ নেই। তার দাবি, নামাজ ও যাকাত সমাজে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষুধা-দারিদ্র্য দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

সুদভিত্তিক অর্থনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইসলামে সুদ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি প্রস্তাব দেন, সঠিকভাবে যাকাত আদায় করা গেলে বছরে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা সংগ্রহ সম্ভব। এ জন্য বিভিন্ন মতাদর্শের আলেমদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় যাকাত কমিটি বা সরকারের অধীনে পৃথক ‘যাকাত মন্ত্রণালয়’ গঠন করা যেতে পারে।

কালো টাকা সাদা করার সুযোগেরও সমালোচনা করেন এই সংসদ সদস্য। তার ভাষ্য, এ সুবিধা বাতিল করা উচিত এবং চোরাচালান ও দুর্নীতির অর্থ দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তিনি মদ, বিড়ি ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য নিষিদ্ধের দাবি জানান।

বক্তব্যে তিনি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি সুবিধা, শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ, এমপিওবহির্ভূত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করা, শ্রমিকদের সময়মতো মজুরি পরিশোধ, বেকারত্ব কমাতে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং নিজ এলাকার হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করারও আহ্বান জানান।

এ ছাড়া মসজিদে রাজনীতি নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ইসলামের ইতিহাসে রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্র ছিল মসজিদে নববী। পাশাপাশি ঋণ পরিশোধ না করে মৃত্যুর পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসারও আহ্বান জানান।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বাজেটে যাকাত নেই, সুদ ভিত্তিক অর্থনীতি বাতিলের দাবি জামায়াত এমপির

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৫৯:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ‘যাকাত’ শব্দের উল্লেখ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি সুদভিত্তিক অর্থনীতি বাতিল করে যাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ প্রত্যাহার এবং মদ-বিড়িসহ নেশাজাতীয় দ্রব্য নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন।

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ‘যাকাত’ শব্দের উল্লেখ না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি বলেছেন, সুদভিত্তিক অর্থনীতি দেশের জন্য ক্ষতিকর। এর পরিবর্তে যাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করলে বাজেট ঘাটতি পূরণ এবং দারিদ্র্য কমানো সম্ভব।

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বাজেটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অপচয় রোধের কথা থাকলেও যাকাতের কোনো উল্লেখ নেই। তার দাবি, নামাজ ও যাকাত সমাজে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষুধা-দারিদ্র্য দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

সুদভিত্তিক অর্থনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইসলামে সুদ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি প্রস্তাব দেন, সঠিকভাবে যাকাত আদায় করা গেলে বছরে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা সংগ্রহ সম্ভব। এ জন্য বিভিন্ন মতাদর্শের আলেমদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় যাকাত কমিটি বা সরকারের অধীনে পৃথক ‘যাকাত মন্ত্রণালয়’ গঠন করা যেতে পারে।

কালো টাকা সাদা করার সুযোগেরও সমালোচনা করেন এই সংসদ সদস্য। তার ভাষ্য, এ সুবিধা বাতিল করা উচিত এবং চোরাচালান ও দুর্নীতির অর্থ দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তিনি মদ, বিড়ি ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য নিষিদ্ধের দাবি জানান।

বক্তব্যে তিনি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি সুবিধা, শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ, এমপিওবহির্ভূত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করা, শ্রমিকদের সময়মতো মজুরি পরিশোধ, বেকারত্ব কমাতে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং নিজ এলাকার হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করারও আহ্বান জানান।

এ ছাড়া মসজিদে রাজনীতি নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ইসলামের ইতিহাসে রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্র ছিল মসজিদে নববী। পাশাপাশি ঋণ পরিশোধ না করে মৃত্যুর পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসারও আহ্বান জানান।