ঢাকা ১১:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পোশাকশিল্পের অসন্তোষে নজর ভারতের

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৩২:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / 18

রণধীর জয়সোয়াল

বাংলাদেশে তৈরি পোশাককর্মীদের বিক্ষোভ ও অসন্তোষের দিকে নজর রাখছে ভারত। পরিস্থিতি কোন দিকে যায় তার ওপর ভারতের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে। আজ মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে প্রশ্নোত্তরে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এ কথা বলেছেন।

বাংলাদেশে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন দীর্ঘায়িত হলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা (সাপ্লাই চেইন) ব্যাহত হবে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়সোয়াল এই জবাব দেন। তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের দাবি ও আন্দোলনের চরিত্র এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে তিনি অবশ্য কোনো মন্তব্য করেননি। শুধু বলেন, ‘এটা ঠিক, সে দেশে কিছু ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।’

আজ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ–ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়েও বেশ কয়েকটি প্রশ্ন করা হয়। সম্প্রতি ঢাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক বিক্ষোভ সমাবেশে ভারতবিরোধী স্লোগান শোনা যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ভারত বিষয়টিকে কীভাবে দেখছে। এ প্রশ্ন নিয়ে জয়সোয়াল কোনো মন্তব্য না করে শুধু বলেন, এমন ধরনের ঘটনার প্রতি সব সময় নজর রাখা হয়।

আর একটি প্রশ্ন করা হয় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁনের দেওয়া সাম্প্রতিক এক বক্তব্য নিয়ে। সাংবাদিক প্রশ্নে বলেন, রাশেদ খাঁন বলেছেন, জামায়াত ও আওয়ামী লীগের সহায়তায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বাংলাদেশে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটাতে চাইছে। এ বক্তব্যের বিষয়ে ভারত সরকারের মনোভাব কী, জানতে চাওয়া হয়। এ প্রশ্নেরও সরাসরি জবাব দেননি জয়সোয়াল। তিনি শুধু বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কিছুই বলার নেই।’

বস্তুত আজকের ব্রিফিংয়েও বাংলাদেশ–সংক্রান্ত প্রশ্নগুলোর জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র খুবই সংযত ও সজাগ ছিলেন। সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ক্রমেই চীন ও পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকে পড়ছে কি না, এমন এক প্রশ্নও করা হয়। জানতে চাওয়া হয়, নতুন সরকার গঠনের পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক হচ্ছে বলে ভারত মনে করে কি না। সেই প্রশ্নের জবাবে কোনো মন্তব্য না করে জয়সোয়াল পুরোনো উত্তরই নতুন করে শোনান। তিনি বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি এখনো বলছি, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎ–মুখী সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী। এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সেই প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যেই আমরা এগোতে চাই।’

বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় এক নেতার সতর্কবার্তা নিয়েও ভারতের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়। এক সাংবাদিক বলেন, ওই বিরোধী নেতা নাকি তারেক রহমান সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন ভারতকে যেন ট্রানজিট করিডর দেওয়া না হয়। গঙ্গা চুক্তি নিয়েও তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, নতুন চুক্তি যেন বাংলাদেশের পক্ষে ন্যায্য হয়। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলেও জয়সোয়াল বিরোধী নেতার মন্তব্যের পিঠে পাল্টা কোনো মন্তব্য করেননি। তবে গঙ্গা চুক্তি বিষয়ে ভারত সরকারের পুরোনো মনোভাবের কথাই উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, দুই দেশের মধ্যে প্রবাহিত গঙ্গাসহ যত নদী আছে তার পানিসম্পদ ভাগাভাগি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) রয়েছে। তার কাঠামোতেই অভিন্ন নদীসংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় আলোচিত হয়।’ জয়সোয়াল বলেন, এ বিষয়ে এখনো নতুন কিছু বলার নেই।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ের প্রশ্নোত্তর থেকে স্পষ্ট, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে ভারত এমন কোনো মন্তব্য বা সমালোচনা করতে চায় না, যা ইতিবাচক নয়। বরং ভারত যে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎ-মুখী সম্পর্ক চায়, সেই কথাই বারবার মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হবে–হবে করেও কেন হতে পারছে না, কী কারণে সফর বাস্তবায়িত হচ্ছে না; সেই প্রশ্নের কোনো উত্তর জয়সোয়াল দেননি। শুধু বলেছেন, সফর নিয়ে নতুন কোনো খবর থাকলে জানাবেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পোশাকশিল্পের অসন্তোষে নজর ভারতের

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৩২:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশে তৈরি পোশাককর্মীদের বিক্ষোভ ও অসন্তোষের দিকে নজর রাখছে ভারত। পরিস্থিতি কোন দিকে যায় তার ওপর ভারতের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে। আজ মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে প্রশ্নোত্তরে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এ কথা বলেছেন।

বাংলাদেশে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন দীর্ঘায়িত হলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা (সাপ্লাই চেইন) ব্যাহত হবে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়সোয়াল এই জবাব দেন। তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের দাবি ও আন্দোলনের চরিত্র এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে তিনি অবশ্য কোনো মন্তব্য করেননি। শুধু বলেন, ‘এটা ঠিক, সে দেশে কিছু ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।’

আজ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ–ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়েও বেশ কয়েকটি প্রশ্ন করা হয়। সম্প্রতি ঢাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক বিক্ষোভ সমাবেশে ভারতবিরোধী স্লোগান শোনা যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ভারত বিষয়টিকে কীভাবে দেখছে। এ প্রশ্ন নিয়ে জয়সোয়াল কোনো মন্তব্য না করে শুধু বলেন, এমন ধরনের ঘটনার প্রতি সব সময় নজর রাখা হয়।

আর একটি প্রশ্ন করা হয় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁনের দেওয়া সাম্প্রতিক এক বক্তব্য নিয়ে। সাংবাদিক প্রশ্নে বলেন, রাশেদ খাঁন বলেছেন, জামায়াত ও আওয়ামী লীগের সহায়তায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বাংলাদেশে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটাতে চাইছে। এ বক্তব্যের বিষয়ে ভারত সরকারের মনোভাব কী, জানতে চাওয়া হয়। এ প্রশ্নেরও সরাসরি জবাব দেননি জয়সোয়াল। তিনি শুধু বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কিছুই বলার নেই।’

বস্তুত আজকের ব্রিফিংয়েও বাংলাদেশ–সংক্রান্ত প্রশ্নগুলোর জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র খুবই সংযত ও সজাগ ছিলেন। সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ক্রমেই চীন ও পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকে পড়ছে কি না, এমন এক প্রশ্নও করা হয়। জানতে চাওয়া হয়, নতুন সরকার গঠনের পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক হচ্ছে বলে ভারত মনে করে কি না। সেই প্রশ্নের জবাবে কোনো মন্তব্য না করে জয়সোয়াল পুরোনো উত্তরই নতুন করে শোনান। তিনি বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি এখনো বলছি, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎ–মুখী সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী। এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সেই প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যেই আমরা এগোতে চাই।’

বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় এক নেতার সতর্কবার্তা নিয়েও ভারতের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়। এক সাংবাদিক বলেন, ওই বিরোধী নেতা নাকি তারেক রহমান সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন ভারতকে যেন ট্রানজিট করিডর দেওয়া না হয়। গঙ্গা চুক্তি নিয়েও তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, নতুন চুক্তি যেন বাংলাদেশের পক্ষে ন্যায্য হয়। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলেও জয়সোয়াল বিরোধী নেতার মন্তব্যের পিঠে পাল্টা কোনো মন্তব্য করেননি। তবে গঙ্গা চুক্তি বিষয়ে ভারত সরকারের পুরোনো মনোভাবের কথাই উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, দুই দেশের মধ্যে প্রবাহিত গঙ্গাসহ যত নদী আছে তার পানিসম্পদ ভাগাভাগি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) রয়েছে। তার কাঠামোতেই অভিন্ন নদীসংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় আলোচিত হয়।’ জয়সোয়াল বলেন, এ বিষয়ে এখনো নতুন কিছু বলার নেই।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ের প্রশ্নোত্তর থেকে স্পষ্ট, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে ভারত এমন কোনো মন্তব্য বা সমালোচনা করতে চায় না, যা ইতিবাচক নয়। বরং ভারত যে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎ-মুখী সম্পর্ক চায়, সেই কথাই বারবার মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হবে–হবে করেও কেন হতে পারছে না, কী কারণে সফর বাস্তবায়িত হচ্ছে না; সেই প্রশ্নের কোনো উত্তর জয়সোয়াল দেননি। শুধু বলেছেন, সফর নিয়ে নতুন কোনো খবর থাকলে জানাবেন।