ঢাকা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নতুন ভবনের আশ্বাস

দুই হাত নেই, স্কুল গড়ে প্রধানমন্ত্রীর নজরে

বশির আহম্মদ মোল্লা, নরসিংদী
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৩:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 58

দুই হাত নেই, স্কুল গড়ে প্রধানমন্ত্রীর নজরে

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই। তবে শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাঁর এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হতে পারেনি। পা দিয়ে লেখার অভ্যাস গড়ে তুলে নিজের জীবনকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তারে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন। নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থ দিয়ে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা এই ব্যক্তিকে এবার নতুন ভবন নির্মাণে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আলতাফ হোসেনসহ সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখা তিন ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তাঁদের জীবনসংগ্রাম ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কথা শোনেন তিনি।

নরসিংদীর পাঁচদোনা এলাকার বাসিন্দা আলতাফ হোসেন। জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকলেও পা দিয়ে লেখালেখি শিখে নিজের জীবন গড়ে তুলেছেন তিনি। ২০০৭ সালে পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল’। নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। পাঠদান করছেন ১০ জন শিক্ষক।

আলতাফ হোসেনের জীবনসংগ্রাম ও শিক্ষা বিস্তারে অবদানের কথা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। তাঁর উদ্যোগের কথা শুনে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর আলতাফ হোসেনকে দেওয়া এক চিঠিতে তাঁর উদ্যোগের প্রশংসা করেন তারেক রহমান। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও কর্মের মাধ্যমে আলতাফ হোসেন অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর মতো মানুষের কর্মকাণ্ড অন্যদেরও সমাজের কল্যাণে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

চিঠিতে আরও বলা হয়, দেশ ও জনগণের স্বার্থে এ ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক নাগরিক নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখার চেষ্টা করলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। আলতাফ হোসেনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানান।

শারীরিক সীমাবদ্ধতা জয় করে শিক্ষা বিস্তারে আলতাফ হোসেনের এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মিত হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবেশ উন্নত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নতুন ভবনের আশ্বাস

দুই হাত নেই, স্কুল গড়ে প্রধানমন্ত্রীর নজরে

সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৩:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই। তবে শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাঁর এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হতে পারেনি। পা দিয়ে লেখার অভ্যাস গড়ে তুলে নিজের জীবনকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তারে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন। নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থ দিয়ে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা এই ব্যক্তিকে এবার নতুন ভবন নির্মাণে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আলতাফ হোসেনসহ সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখা তিন ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তাঁদের জীবনসংগ্রাম ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কথা শোনেন তিনি।

নরসিংদীর পাঁচদোনা এলাকার বাসিন্দা আলতাফ হোসেন। জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকলেও পা দিয়ে লেখালেখি শিখে নিজের জীবন গড়ে তুলেছেন তিনি। ২০০৭ সালে পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল’। নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। পাঠদান করছেন ১০ জন শিক্ষক।

আলতাফ হোসেনের জীবনসংগ্রাম ও শিক্ষা বিস্তারে অবদানের কথা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। তাঁর উদ্যোগের কথা শুনে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর আলতাফ হোসেনকে দেওয়া এক চিঠিতে তাঁর উদ্যোগের প্রশংসা করেন তারেক রহমান। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও কর্মের মাধ্যমে আলতাফ হোসেন অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর মতো মানুষের কর্মকাণ্ড অন্যদেরও সমাজের কল্যাণে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

চিঠিতে আরও বলা হয়, দেশ ও জনগণের স্বার্থে এ ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক নাগরিক নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখার চেষ্টা করলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। আলতাফ হোসেনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানান।

শারীরিক সীমাবদ্ধতা জয় করে শিক্ষা বিস্তারে আলতাফ হোসেনের এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মিত হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবেশ উন্নত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।