ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতে প্রস্তুত নয়াদিল্লি
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪০:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 108
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ইতিবাচক ও গঠনমূলক পথে এগিয়ে নিতে চায় ভারত। দুই দেশের বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এমন অবস্থানের কথা জানিয়েছেন মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল।
এদিকে, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে অতীতের টানাপোড়েনে আটকে না রেখে সামনে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। তাঁর মতে, দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও আরও বিস্তৃত করতে হবে।

এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাতেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভারতীয় হাই কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতি দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের ওপর জোর দেন। অন্যদিকে ত্রিবেদী দুই দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে জয়সোয়াল জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান আগেই স্পষ্ট করা হয়েছে। ভারত সব সময় ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চেয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কাঠামোগত ব্যবস্থার মধ্য থেকেই সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে ভারত প্রস্তুত।
আসাদ আলম সিয়ামকে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার করার সম্ভাবনা নিয়ে ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করা হয়। তার নিয়োগকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যায় কি না, জানতে চাইলে জয়সোয়াল সরাসরি মন্তব্য না করে ভারতের সামগ্রিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে আসাদ আলম সিয়ামকে ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে নয়াদিল্লি।
একই ব্রিফিংয়ে ভারতের আয়োজিত বহুপক্ষীয় বিমান মহড়া ‘তরঙ্গ শক্তি’-তে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অংশ নেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। একটি সি-১৩০জে পরিবহন বিমান নিয়ে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে কি না; এমন প্রশ্নেরও সরাসরি উত্তর দেননি জয়সোয়াল। তিনি আবারও দুই দেশের সম্পর্ককে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী করার ভারতের আগ্রহের কথা জানান।

দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগও সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও নতুন করে আলোচনা চলছে। এ সফর নিয়ে বাংলাদেশ আগে যেসব শর্তের কথা জানিয়েছিল, সেগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে জয়সোয়াল বলেন, এ বিষয়ে বলার মতো কিছু থাকলে পরে জানানো হবে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে নিউইয়র্কে রয়েছেন। সেখানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে তার বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে জয়সোয়াল বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে এখনো কোনো তথ্য নেই।
সীমান্ত, বাণিজ্য, পানি, নিরাপত্তা, প্রত্যর্পণ ও মানুষের যাতায়াতসহ দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর ইস্যু দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। এসব ইস্যুর মধ্যেই নয়াদিল্লি আবারও আলোচনার টেবিলে বসার প্রস্তুতির কথা জানাল। ফলে ভারতের এই বার্তা বাস্তবে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে কতটা পরিবর্তন আনে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোতে দীনেশ ত্রিবেদীর বার্তায় তিনটি বিষয় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে; অতীতের জটিলতায় সম্পর্ককে আটকে না রাখা, জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বাড়ানো এবং বাণিজ্য-অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করা। তবে সীমান্ত, পানি, বাণিজ্য, নিরাপত্তা, ভিসা ও প্রত্যর্পণসহ যেসব দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে, সেগুলোর বাস্তব অগ্রগতিই সম্পর্কের নতুন গতিপথের বড় পরীক্ষা হয়ে থাকবে।
এদিকে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন করে সাজাতে চায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। অতীতের ১৫ বছরের সম্পর্কের ধারা থেকে বের হয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি কার্যকর ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।





























