নেপালে মানবপাচার চক্রে জড়িত আ.লীগ নেত্রী হোসনা
- সর্বশেষ আপডেট ০২:১৩:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 19
নেপালে পালিয়ে গিয়ে মানবপাচার ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের একটি চক্র গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত মহিলা আওয়ামী লীগের গাজীপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ফাহিমা আকতার হোসনার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, কাজ দেওয়ার কথা বলে বাংলাদেশ থেকে নারীদের নেপালে নিয়ে গিয়ে তাদের পতিতাবৃত্তিতে জড়ানো এবং ধনী ব্যক্তিদের টার্গেট করে ব্ল্যাকমেইল করতেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ফাহিমা নেপালে পালিয়ে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তিনি মানবপাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ব্ল্যাকমেইল করে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
কাঠমান্ডুর থামেলের মুসলিম গলিতে ‘ঢাকা এক্সপ্রেস’ নামের একটি হোটেল দখলে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে ফাহিমার বিরুদ্ধে। হোটেলটির মালিককে ব্ল্যাকমেইল করে সেটি দখলে নেওয়ার অভিযোগে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ফাহিমাসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে নেপাল পুলিশ। তবে প্রায় দুই সপ্তাহ পর জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি শ্রীলঙ্কায় পালিয়ে যান বলে জানা গেছে।
কাঠমান্ডুতে অবস্থানরত এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সেখানে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে। তার ভাষ্য, আগে বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক নারী নেপালে আসতেন। ফাহিমা আকতার হোসনা ওই চক্রের নেতৃত্বস্থানীয়দের একজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ পতিতাবৃত্তিতে জড়াতেন, আবার কিছু নারীকে অন্য দেশে পাঠানো হতো।
ওই ব্যবসায়ী আরও জানান, কাঠমান্ডুতে এ ধরনের আরও তিন থেকে চারটি মানবপাচারকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব চক্র ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে নারী ও শিশুদের বিভিন্ন সেফ হাউসে আটকে রাখে এবং পরে পাচার করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট কনস্যুলার শোয়েব আব্দুল্লাহ বলেন, দালাল চক্র বিভিন্ন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মানুষকে শোষণ করে। ইউরোপের কোনো দেশে পাঠানোর কথা বলে অতিরিক্ত লোকজনকে নেপালে এনে তাদের পাসপোর্ট নিয়ে নেওয়া হয়। পরে পাসপোর্ট নিয়ে চক্রের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যায় এবং ভুক্তভোগীদের ব্ল্যাকমেইল করার ঘটনাও ঘটে।
নেপালের ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, গত তিন মাসে মানবপাচারে জড়িত তিনটি গ্রুপকে আটক করা হয়েছে। দেশটির ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের দাবি, নেপালে মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে সবচেয়ে বেশি জড়িত চীনা নাগরিকরা। এরপরই রয়েছে বাংলাদেশিরা। গত এক বছরে বিভিন্ন অপরাধে প্রায় ১০০ বাংলাদেশিকে আটক করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নেপাল ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক টিকা রাম ধাকাল বলেন, বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত অনেককে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে নানা জটিলতার মুখে পড়তে হয়।
তার ভাষ্য, মানবপাচারের শিকার অনেক ব্যক্তি অভিযোগ করতে আগ্রহী হন না। আবার অনেক ঘটনায় অপরাধের পর্যাপ্ত প্রমাণও পাওয়া যায় না। ফলে আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযুক্তদের দীর্ঘ সময় আটক রাখা সম্ভব হয় না। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দূতাবাসকে অবহিত করে সংশ্লিষ্টদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
নেপালে সক্রিয় মানবপাচারকারী চক্র নিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শফিকুর রহমান বলেন, এ ধরনের ঘটনায় দূতাবাস জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। কয়েকটি হোটেলের নামও দূতাবাসের নজরে এসেছে। এসব হোটেল থেকে মাঝেমধ্যে সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তারের তথ্যও পাওয়া যায়।
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য তুলনামূলক সহজ ভিসা ব্যবস্থা ও কম খরচের কারণে নেপাল দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় গন্তব্য। তবে সেখানে বাংলাদেশি নাগরিকদের একটি অংশ মানবপাচার ও অন্যান্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ দুই দেশের সম্পর্ক এবং নেপালে বাংলাদেশিদের চলাচলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।





























