ঢাকা ০৭:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চিনি শিল্পে লোকসান, রেকর্ড মুনাফা কেরুর

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:২১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 34

কেরু

দেশের চিনি শিল্প যখন বছরের পর বছর লোকসানের মুখে, তখন ব্যতিক্রমী সাফল্য দেখাচ্ছে দর্শনার কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির চিনি উৎপাদন বিভাগে লোকসান থাকলেও ডিস্টিলারি বিভাগ থেকে আসছে বিপুল মুনাফা। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও মুনাফার রেকর্ড করেছে ৮৭ বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠানটি।

১৯৩৮ সালে চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় প্রতিষ্ঠিত কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের আয়ের বড় অংশই এখন আসছে ডিস্টিলারি বিভাগ থেকে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে ডিস্টিলারি বিভাগ থেকে মুনাফা হয়েছিল ১৩২ কোটি টাকা। চার বছর পর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সেই মুনাফা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকায়। অর্থাৎ চার বছরে ডিস্টিলারি বিভাগের মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েক বছর আগেও কেরুর ডিস্টিলারি বিভাগে মদ উৎপাদনে সনাতন ও অনেকটাই ম্যানুয়াল পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে সেই পদ্ধতির পরিবর্তে কারখানায় স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি। এতে মানুষের সরাসরি স্পর্শ ছাড়াই বিভিন্ন ব্র্যান্ডের অ্যালকোহল উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।

কেরুর কর্মীরা জানান, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে উৎপাদনের গুণগত মান যেমন উন্নত হয়েছে, তেমনি কমেছে শ্রম ও সময়ের চাপ। একই সঙ্গে বেড়েছে উৎপাদন সক্ষমতা। গুণগত মান ভালো হওয়ায় বাজারে কেরুর উৎপাদিত পণ্যের চাহিদাও আগের তুলনায় বেড়েছে।

দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের ডিস্টিলারি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রাজিবুল হাসান জানান, সর্বশেষ অর্থবছরে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৮০০ বোতল মদ উৎপাদন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি মদ বিক্রি হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার বোতল, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৬ হাজার বোতল বেশি।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, কেরুর রাজস্বের বড় অংশ আসে ডিস্টিলারিতে উৎপাদিত পরিশোধিত মদ তৈরির উপাদান বিক্রি থেকে। মুনাফার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি সরকারকে প্রায় ১৫৩ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২১ সালে বিদেশি মদ আমদানিতে বিধিনিষেধ কঠোর হওয়ার পর দেশীয় বাজারে কেরুর উৎপাদিত মদের চাহিদা বাড়তে শুরু করে। সেই চাহিদা এবং ডিস্টিলারি বিভাগের আধুনিকায়নের ফলে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে উৎপাদন ও মুনাফা। ফলে চিনি শিল্পে লোকসান থাকলেও ডিস্টিলারি বিভাগের আয়ে প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক আর্থিক চিত্রে এসেছে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

চিনি শিল্পে লোকসান, রেকর্ড মুনাফা কেরুর

সর্বশেষ আপডেট ০১:২১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

দেশের চিনি শিল্প যখন বছরের পর বছর লোকসানের মুখে, তখন ব্যতিক্রমী সাফল্য দেখাচ্ছে দর্শনার কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির চিনি উৎপাদন বিভাগে লোকসান থাকলেও ডিস্টিলারি বিভাগ থেকে আসছে বিপুল মুনাফা। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও মুনাফার রেকর্ড করেছে ৮৭ বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠানটি।

১৯৩৮ সালে চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় প্রতিষ্ঠিত কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের আয়ের বড় অংশই এখন আসছে ডিস্টিলারি বিভাগ থেকে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে ডিস্টিলারি বিভাগ থেকে মুনাফা হয়েছিল ১৩২ কোটি টাকা। চার বছর পর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সেই মুনাফা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকায়। অর্থাৎ চার বছরে ডিস্টিলারি বিভাগের মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েক বছর আগেও কেরুর ডিস্টিলারি বিভাগে মদ উৎপাদনে সনাতন ও অনেকটাই ম্যানুয়াল পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে সেই পদ্ধতির পরিবর্তে কারখানায় স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি। এতে মানুষের সরাসরি স্পর্শ ছাড়াই বিভিন্ন ব্র্যান্ডের অ্যালকোহল উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।

কেরুর কর্মীরা জানান, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে উৎপাদনের গুণগত মান যেমন উন্নত হয়েছে, তেমনি কমেছে শ্রম ও সময়ের চাপ। একই সঙ্গে বেড়েছে উৎপাদন সক্ষমতা। গুণগত মান ভালো হওয়ায় বাজারে কেরুর উৎপাদিত পণ্যের চাহিদাও আগের তুলনায় বেড়েছে।

দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের ডিস্টিলারি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রাজিবুল হাসান জানান, সর্বশেষ অর্থবছরে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৮০০ বোতল মদ উৎপাদন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি মদ বিক্রি হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার বোতল, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৬ হাজার বোতল বেশি।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, কেরুর রাজস্বের বড় অংশ আসে ডিস্টিলারিতে উৎপাদিত পরিশোধিত মদ তৈরির উপাদান বিক্রি থেকে। মুনাফার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি সরকারকে প্রায় ১৫৩ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২১ সালে বিদেশি মদ আমদানিতে বিধিনিষেধ কঠোর হওয়ার পর দেশীয় বাজারে কেরুর উৎপাদিত মদের চাহিদা বাড়তে শুরু করে। সেই চাহিদা এবং ডিস্টিলারি বিভাগের আধুনিকায়নের ফলে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে উৎপাদন ও মুনাফা। ফলে চিনি শিল্পে লোকসান থাকলেও ডিস্টিলারি বিভাগের আয়ে প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক আর্থিক চিত্রে এসেছে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন।