হিজড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
- / 26
হিজড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে একটি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি রাষ্ট্র, সমাজ ও বিভিন্ন সংগঠনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তার।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে বন্ধু সোশ্যাল ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি আয়োজিত ‘হিজড়া তরুণ ও নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে প্রণোদনা প্রদান-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
শওকত আরা আক্তার বলেন, সমাজে হিজড়া সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে অনেকেই দূরত্ব বজায় রাখেন। অথচ তারাও মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে অনেক কিছু করতে পারেন। তাদের মেধা ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে একসঙ্গে কাজ করলে সমাজের সামনে তাদের যোগ্যতা তুলে ধরা সম্ভব। রাষ্ট্র যেহেতু হিজড়া জনগোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দিয়েছে, তাই তাদের উন্নয়নে সবাইকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে ২৬ জন হিজড়া উদ্যোক্তার প্রত্যেককে ৭৫ হাজার টাকা করে প্রণোদনা দেওয়া হয়। আয়োজকরা জানান, সারা দেশ থেকে পাওয়া ৯০টি ব্যবসায়িক ধারণার মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে ২৬টি উদ্যোগকে প্রণোদনার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বন্ধু সোশ্যাল ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির চেয়ারপার্সন তামান্না রহমানের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন নির্বাহী পরিচালক সালেহ আহমেদ। তিনি বলেন, প্রায় তিন দশক ধরে সংগঠনটি হিজড়া জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা, মানবাধিকার ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। উদ্যোক্তা উন্নয়নে এবার দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আবেদন পাওয়া গেছে।
ইউএন উইমেন বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি প্রতিনিধি নবনীতা সিনহা বলেন, উদ্যোক্তা হওয়া মানুষের ক্ষমতায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। হিজড়া উদ্যোক্তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সমাজের কাউকে পিছিয়ে না রেখে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন আন্দোলনে হিজড়া জনগোষ্ঠীর মানুষের অংশগ্রহণ রয়েছে। কিন্তু তারা এখনো নানা ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। তাদের অবদান ও অধিকারকে যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের মাতৃস্বাস্থ্য কর্মসূচির বিশেষজ্ঞ ডা. অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, হিজড়া জনগোষ্ঠীর মেধা ও দক্ষতাভিত্তিক কাজগুলো সমাজের সামনে তুলে ধরতে হবে। তাদের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে দেশীয় পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিতেও তারা ভূমিকা রাখতে পারবেন।
সভাপতির বক্তব্যে তামান্না রহমান বলেন, কবি কাজী নজরুল ইসলামের মানবতাবাদী আদর্শকে সামনে রেখে সমাজের ভেদাভেদ দূর করতে হবে। ধর্ম, আর্থিক অবস্থা, পোশাক বা পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য না করে হিজড়া জনগোষ্ঠীকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা দেওয়ার লক্ষ্যেই তাদের সংগঠন কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কনসালটেন্ট মো. মেছবাহ ইউ আহমেদ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হটলাইন কর্মকর্তা রাইসুল ইসলাম এবং প্রণোদনা পাওয়া উদ্যোক্তারা। অনুষ্ঠানের শুরুতে রানী চৌধুরী ও শাওনের নৃত্য পরিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। বন্ধু সোশ্যাল ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির প্রকল্প কোঅর্ডিনেটর জান্নাতে নাঈম হিজড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, ব্যবসা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন।



























