প্রধানমন্ত্রী-শামাকে ঘিরে বিএনপির হট্টগোলের নেপথ্যে!
- সর্বশেষ আপডেট ০২:২০:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 16
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে নিউইয়র্কে ছুটে এসেছিলেন বিএনপির শত শত নেতাকর্মী। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কেউ কেউ কয়েক দিন ধরে হোটেলে অপেক্ষাও করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের বড় একটি অংশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ না পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়। এরই মধ্যে সাক্ষাৎ আয়োজনের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং একপর্যায়ে সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদকে ঘিরে।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মীদের সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী হোটেলে জড়ো হলেও সীমিতসংখ্যক নেতাকে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন অনেকে। বাকিরা দীর্ঘ সময় হোটেলের বাইরে ও লবিতে অপেক্ষা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের ভাষ্য, বিপুল উপস্থিতি এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে একপর্যায়ে পরিস্থিতি বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে। হট্টগোল শুরু হলে নিরাপত্তাকর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠান দ্রুত শেষ করা হয়। হোটেলের আশপাশে নিউইয়র্ক পুলিশ ও সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যদের উপস্থিতিও দেখা যায়।
ফ্লোরিডা বিএনপির সভাপতি ইমরানুল হক চাকলাদার বলেন, তারেক রহমানকে একনজর দেখার জন্য নেতাকর্মীরা নিজেদের খরচে শত শত মাইল পাড়ি দিয়ে নিউইয়র্কে এসেছিলেন। তাদের অনেকে কয়েক দিন হোটেলে অবস্থান করেও সাক্ষাতের সুযোগ পাননি। তিনি এ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে তদন্ত দাবি করেন।
নিউইয়র্ক মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। কিন্তু সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে অল্পসংখ্যক নেতা প্রবেশের সুযোগ পাওয়ায় দীর্ঘদিনের অনেক সক্রিয় নেতাকর্মী বাইরে থেকে যান।
বোস্টন বিএনপির সভাপতি সৈয়দ বদরে আলম সাইফুল বলেন, নেতাকর্মীরা তারেক রহমানকে গণসংবর্ধনা দেওয়ার আশা করেছিলেন। পরে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানেও প্রত্যাশিত সুযোগ না পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরেছেন। তবে তার সঙ্গে আসা অনেক নেতাকর্মী সাক্ষাৎ করতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন।
নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ অলিউল্লা আতিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। কিন্তু অনেকে শেষ পর্যন্ত সাক্ষাৎ করতে না পারায় তাদের কাছে কোনো জবাব দিতে পারছেন না। তিনিও বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানান।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে না পারা নিয়ে ক্ষুব্ধ কয়েকজন নেতাকর্মী শুক্রবার বাংলাদেশ সময় ভোররাতে নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে শামা ওবায়েদকে ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হোটেলের লিফটের সামনে কয়েকজন ব্যক্তি শামা ওবায়েদকে ঘিরে কথা বলছেন এবং গালাগাল করছেন। এ সময় পেছন থেকে একজনকে তাকে মারার কথা বলতেও শোনা যায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শামা ওবায়েদের ছেলে এগিয়ে আসেন। পরে তাকে কয়েকজনের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে জড়াতে দেখা যায়।
ভিডিওতে শামা ওবায়েদের ছেলে তার মায়ের পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে একজন ধাক্কা দেন। পরে এক নারীও তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দিতে থাকেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়।
সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই শামা ওবায়েদকে ঘিরে এ উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে ঘটনার বিষয়ে শামা ওবায়েদের বক্তব্য জানা যায়নি।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফর শেষে শুক্রবার রাতে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি থাকলেও সাক্ষাৎ আয়োজনের ব্যবস্থাপনা নিয়ে শেষ পর্যন্ত অসন্তোষ তৈরি হয়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসেও সাক্ষাৎ না পাওয়ার ক্ষোভ প্রথমে হোটেলের আয়োজনকে ঘিরে প্রকাশ পেলেও পরে তা শামা ওবায়েদকে ঘিরে উত্তেজনায় রূপ নেয় বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।


































