ঢাকা ০৪:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলা মিথ্যা, বাদী নারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক, পঞ্চগড়
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:৩১:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / 14

সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলা মিথ্যা, বাদী নারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

পঞ্চগড়ে দায়ের হওয়া একটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় পাঁচ আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলাটি দায়েরকারী নারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হুসেইন মুহম্মদ ফজলুল বারী সাক্ষ্য-প্রমাণ, পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন ও ডিএনএ পরীক্ষার ফল পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই রাতে সদর উপজেলার জগদল এলাকার জনি ইসলাম, বিপ্লব হোসেন, মোকছেদুল ইসলাম, সাদেকুল ইসলাম ও খয়রুল ইসলামসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন ৩০ বছর বয়সী এক নারী।

এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, পঞ্চগড় থেকে বাড়ি ফেরার পথে তিনমাইল এলাকায় তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে রাস্তার পাশে নিয়ে যান কয়েকজন ব্যক্তি। এ সময় তার দুই বছরের শিশুকে ছুরি দেখিয়ে জিম্মি করে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ তাকে ও তার সন্তানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

তবে মামলার তদন্তে অভিযোগের সঙ্গে ভিন্ন তথ্য উঠে আসে। বাদীর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা নমুনার ডিএনএ পাঁচ আসামির কারও সঙ্গে মেলেনি। বরং নমুনার ডিএনএ জগদল এলাকার আইবুল হক নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে মিলে যায়।

তদন্তে আরও জানা যায়, ওই নারী আইবুল হকের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তাদের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের তথ্যও তদন্তে উঠে আসে।

পরে সাক্ষীদের জবানবন্দি, পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন, ডিএনএ পরীক্ষার ফলসহ অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করে আদালত পাঁচ আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন। একই সঙ্গে অভিযোগকারী নারীর বিরুদ্ধে মামলা কার্যক্রম শুরুর অনুমতি দেওয়া হয়।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। তাদের দাবি, নিরপরাধ ব্যক্তিদের ফাঁসাতেই পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খলিলুর রহমান বলেন, আদালত সব নথি, তদন্ত প্রতিবেদন ও ডিএনএ পরীক্ষার ফল যাচাই-বাছাই করেই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তাঁর মতে, রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী কামরুজ্জামান রাশেদ বলেন, আদালতে আসামিদের নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছে এবং রায়ে তারা সন্তুষ্ট।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলা মিথ্যা, বাদী নারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

সর্বশেষ আপডেট ০২:৩১:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

পঞ্চগড়ে দায়ের হওয়া একটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় পাঁচ আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলাটি দায়েরকারী নারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হুসেইন মুহম্মদ ফজলুল বারী সাক্ষ্য-প্রমাণ, পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন ও ডিএনএ পরীক্ষার ফল পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই রাতে সদর উপজেলার জগদল এলাকার জনি ইসলাম, বিপ্লব হোসেন, মোকছেদুল ইসলাম, সাদেকুল ইসলাম ও খয়রুল ইসলামসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন ৩০ বছর বয়সী এক নারী।

এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, পঞ্চগড় থেকে বাড়ি ফেরার পথে তিনমাইল এলাকায় তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে রাস্তার পাশে নিয়ে যান কয়েকজন ব্যক্তি। এ সময় তার দুই বছরের শিশুকে ছুরি দেখিয়ে জিম্মি করে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ তাকে ও তার সন্তানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

তবে মামলার তদন্তে অভিযোগের সঙ্গে ভিন্ন তথ্য উঠে আসে। বাদীর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা নমুনার ডিএনএ পাঁচ আসামির কারও সঙ্গে মেলেনি। বরং নমুনার ডিএনএ জগদল এলাকার আইবুল হক নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে মিলে যায়।

তদন্তে আরও জানা যায়, ওই নারী আইবুল হকের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তাদের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের তথ্যও তদন্তে উঠে আসে।

পরে সাক্ষীদের জবানবন্দি, পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন, ডিএনএ পরীক্ষার ফলসহ অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করে আদালত পাঁচ আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন। একই সঙ্গে অভিযোগকারী নারীর বিরুদ্ধে মামলা কার্যক্রম শুরুর অনুমতি দেওয়া হয়।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। তাদের দাবি, নিরপরাধ ব্যক্তিদের ফাঁসাতেই পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খলিলুর রহমান বলেন, আদালত সব নথি, তদন্ত প্রতিবেদন ও ডিএনএ পরীক্ষার ফল যাচাই-বাছাই করেই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তাঁর মতে, রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী কামরুজ্জামান রাশেদ বলেন, আদালতে আসামিদের নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছে এবং রায়ে তারা সন্তুষ্ট।