ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদা না পেয়ে প্রবাসীর নির্মাণাধীন ভবনে গুলি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:১০:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 82

চাঁদা না পেয়ে প্রবাসীর নির্মাণাধীন ভবনে গুলি

চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশে চাঁদা না পেয়ে এক প্রবাসীর নির্মাণাধীন আবাসিক ভবনের গেটে গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১০ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে হামজারবাগ এলাকায় ‘রুনা টাওয়ার’ নামে ভবনটিতে এ ঘটনা ঘটে। এতে কেউ হতাহত হয়নি।

পুলিশ জানায়, দুই যুবক ভবনের গেট লক্ষ্য করে পরপর দুই রাউন্ড গুলি ছুড়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। হামলায় জড়িতদের এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ভবনটির মালিক হাজী ইউনুস। তাঁর দুই ছেলে প্রবাসে থাকেন। পুলিশ জানিয়েছে, কয়েক দিন আগে মধ্যপ্রাচ্যপ্রবাসী এক ছেলের মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট নম্বর থেকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) হাসান মোস্তফা স্বপন বলেন, সোমবার রাতে হামজারবাগের রুনা টাওয়ারের গেটে দুই যুবক দুই রাউন্ড গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ভবনমালিকের এক প্রবাসী ছেলের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির বিষয়টিও পুলিশ জানতে পেরেছে। পুরো ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের বায়েজিদ ও হামজারবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনকে লক্ষ্য করে চাঁদা দাবির পর গুলি ও হামলার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার কয়েকটির সঙ্গে সন্ত্রাসী সাজ্জাদ গ্রুপের নাম উঠে এসেছে। তবে সর্বশেষ হামলায় কারা জড়িত, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পায়নি পুলিশ।

সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। গত ২ জানুয়ারি ও ২৯ ফেব্রুয়ারি স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের বাড়ি লক্ষ্য করে দুই দফা গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। ওই সময় তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

এ ছাড়া গত ১৩ জুলাই নগরের বাকলিয়া অ্যাকসেস রোড এলাকায় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিডিএনের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের পর ৩০ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ ওঠে। পরে প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষ দাবি করে, বিদেশে থাকা মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন এককালীন দুই কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে রুনা টাওয়ারে গুলি ছোড়ার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গত ২৬ জুলাই হাটহাজারীর বড় দীঘির পাড় এলাকায় পাইকারি চাল ব্যবসায়ী জসীম উদ্দিনের নির্মাণাধীন বাড়িতেও হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তাঁর কাছেও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ ঘটনায় পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে প্রবাসীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

চাঁদা না পেয়ে প্রবাসীর নির্মাণাধীন ভবনে গুলি

সর্বশেষ আপডেট ০৬:১০:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশে চাঁদা না পেয়ে এক প্রবাসীর নির্মাণাধীন আবাসিক ভবনের গেটে গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১০ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে হামজারবাগ এলাকায় ‘রুনা টাওয়ার’ নামে ভবনটিতে এ ঘটনা ঘটে। এতে কেউ হতাহত হয়নি।

পুলিশ জানায়, দুই যুবক ভবনের গেট লক্ষ্য করে পরপর দুই রাউন্ড গুলি ছুড়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। হামলায় জড়িতদের এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ভবনটির মালিক হাজী ইউনুস। তাঁর দুই ছেলে প্রবাসে থাকেন। পুলিশ জানিয়েছে, কয়েক দিন আগে মধ্যপ্রাচ্যপ্রবাসী এক ছেলের মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট নম্বর থেকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) হাসান মোস্তফা স্বপন বলেন, সোমবার রাতে হামজারবাগের রুনা টাওয়ারের গেটে দুই যুবক দুই রাউন্ড গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ভবনমালিকের এক প্রবাসী ছেলের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির বিষয়টিও পুলিশ জানতে পেরেছে। পুরো ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের বায়েজিদ ও হামজারবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনকে লক্ষ্য করে চাঁদা দাবির পর গুলি ও হামলার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার কয়েকটির সঙ্গে সন্ত্রাসী সাজ্জাদ গ্রুপের নাম উঠে এসেছে। তবে সর্বশেষ হামলায় কারা জড়িত, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পায়নি পুলিশ।

সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। গত ২ জানুয়ারি ও ২৯ ফেব্রুয়ারি স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের বাড়ি লক্ষ্য করে দুই দফা গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। ওই সময় তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

এ ছাড়া গত ১৩ জুলাই নগরের বাকলিয়া অ্যাকসেস রোড এলাকায় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিডিএনের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের পর ৩০ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ ওঠে। পরে প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষ দাবি করে, বিদেশে থাকা মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন এককালীন দুই কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে রুনা টাওয়ারে গুলি ছোড়ার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গত ২৬ জুলাই হাটহাজারীর বড় দীঘির পাড় এলাকায় পাইকারি চাল ব্যবসায়ী জসীম উদ্দিনের নির্মাণাধীন বাড়িতেও হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তাঁর কাছেও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ ঘটনায় পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে প্রবাসীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।