ঢাকা ০৩:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে মেসির দল

ঘাম ঝড়িয়ে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার জয়

স্পোর্টস ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:১৫:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • / 13

ছবি: রয়টার্স

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে এমন কঠিন পরীক্ষার মুখে খুব কমই পড়তে দেখা যায়। কিন্তু বিশ্বকাপের নকআউটে অভিষেকেই কেপ ভার্দে বুঝিয়ে দিল, তারা শুধু অংশ নিতে আসেনি-লড়তে এসেছে।

মিয়ামির গর্জনমুখর স্টেডিয়ামে দুইবার পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফিরে আসে আফ্রিকার দলটি। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে আত্মঘাতী গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল।

নিজের ক্লাব ইন্টার মিয়ামির মাঠে শুরু থেকেই ছিলেন লিওনেল মেসি। গ্যালারির বেশিরভাগই আকাশি-সাদা জার্সিধারী সমর্থকে ভরে ওঠে। পুরো স্টেডিয়াম যেন ছোট্ট এক আর্জেন্টিনায় পরিণত হয়।

ম্যাচের ২৯ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মেসি। বিশ্বকাপে এটি তার ২০তম গোল। একই সঙ্গে টানা আটটি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তিও গড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

কিন্তু কেপ ভার্দে হার মানার দল নয়।

দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯ মিনিটে রায়ান মেনডেসের পাস থেকে নিচু শটে সমতা ফেরান ডেরয় ডুরাটে। সেই গোলের পর কিছুটা চাপে পড়ে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

অবশ্য ৯২ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে গোল করেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। মনে হচ্ছিল, এবার বুঝি জয় নিশ্চিত।

কিন্তু নাটক তখনও বাকি।

১০৩ মিনিটে বাম দিক থেকে দুর্দান্ত কোনাকুনি শটে সমতা ফেরান সিডনি লোপেজ। তার এই গোলটি ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোলের দাবিদার হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে।

ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। যখন মনে হচ্ছিল লড়াইয়ের ভাগ্য নির্ধারণ হবে টাইব্রেকারে, তখনই আসে সিদ্ধান্ত।

১১১ মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হেড কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার ডিনে বরগেসের গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। আত্মঘাতী সেই গোলেই ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

পুরো ম্যাচে কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহো ছিলেন দুর্দান্ত। একাধিক নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে তিনি মেসি ও আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখেন। শেষ পর্যন্ত ভাগ্য অবশ্য তার পক্ষে ছিল না।

ম্যাচ শেষে কেপ ভার্দের কোচ বাবিস্তা বলেন, “মেসি ও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এই ম্যাচটি আমার জীবনের সেরা ম্যাচ হয়ে থাকবে।”

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউটে খেলতে নেমেই কেপ ভার্দে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের সামর্থ্যের শক্ত বার্তা দিল। হারলেও তাদের লড়াই প্রশংসা কুড়িয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের।

অন্যদিকে, কোচ লিওনেল স্কালোনির দায়িত্বে শততম ম্যাচটি জয় দিয়ে স্মরণীয় করলেও, আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স নতুন করে ভাবার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ শেষ ষোলোতে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা।

আগামী বৃহস্পতিবার আটলান্টায় শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মিশরের মুখোমুখি হবে লা আলবিসেলেস্তেরা।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে মেসির দল

ঘাম ঝড়িয়ে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার জয়

সর্বশেষ আপডেট ১২:১৫:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে এমন কঠিন পরীক্ষার মুখে খুব কমই পড়তে দেখা যায়। কিন্তু বিশ্বকাপের নকআউটে অভিষেকেই কেপ ভার্দে বুঝিয়ে দিল, তারা শুধু অংশ নিতে আসেনি-লড়তে এসেছে।

মিয়ামির গর্জনমুখর স্টেডিয়ামে দুইবার পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফিরে আসে আফ্রিকার দলটি। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে আত্মঘাতী গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল।

নিজের ক্লাব ইন্টার মিয়ামির মাঠে শুরু থেকেই ছিলেন লিওনেল মেসি। গ্যালারির বেশিরভাগই আকাশি-সাদা জার্সিধারী সমর্থকে ভরে ওঠে। পুরো স্টেডিয়াম যেন ছোট্ট এক আর্জেন্টিনায় পরিণত হয়।

ম্যাচের ২৯ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মেসি। বিশ্বকাপে এটি তার ২০তম গোল। একই সঙ্গে টানা আটটি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তিও গড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

কিন্তু কেপ ভার্দে হার মানার দল নয়।

দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯ মিনিটে রায়ান মেনডেসের পাস থেকে নিচু শটে সমতা ফেরান ডেরয় ডুরাটে। সেই গোলের পর কিছুটা চাপে পড়ে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

অবশ্য ৯২ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে গোল করেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। মনে হচ্ছিল, এবার বুঝি জয় নিশ্চিত।

কিন্তু নাটক তখনও বাকি।

১০৩ মিনিটে বাম দিক থেকে দুর্দান্ত কোনাকুনি শটে সমতা ফেরান সিডনি লোপেজ। তার এই গোলটি ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোলের দাবিদার হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে।

ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। যখন মনে হচ্ছিল লড়াইয়ের ভাগ্য নির্ধারণ হবে টাইব্রেকারে, তখনই আসে সিদ্ধান্ত।

১১১ মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হেড কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার ডিনে বরগেসের গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। আত্মঘাতী সেই গোলেই ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

পুরো ম্যাচে কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহো ছিলেন দুর্দান্ত। একাধিক নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে তিনি মেসি ও আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখেন। শেষ পর্যন্ত ভাগ্য অবশ্য তার পক্ষে ছিল না।

ম্যাচ শেষে কেপ ভার্দের কোচ বাবিস্তা বলেন, “মেসি ও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এই ম্যাচটি আমার জীবনের সেরা ম্যাচ হয়ে থাকবে।”

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউটে খেলতে নেমেই কেপ ভার্দে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের সামর্থ্যের শক্ত বার্তা দিল। হারলেও তাদের লড়াই প্রশংসা কুড়িয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের।

অন্যদিকে, কোচ লিওনেল স্কালোনির দায়িত্বে শততম ম্যাচটি জয় দিয়ে স্মরণীয় করলেও, আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স নতুন করে ভাবার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ শেষ ষোলোতে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা।

আগামী বৃহস্পতিবার আটলান্টায় শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মিশরের মুখোমুখি হবে লা আলবিসেলেস্তেরা।