শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু
খামেনির জানাজায় প্রতিশোধের স্লোগান
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৫৯:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
- / 8
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) ইরানের রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে প্রিয় নেতার প্রতি শোক ও শেষশ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হয়েছেন ইরানিরা। এ সময় পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহেরের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
এর আগে শুক্রবার প্রথমবারের মতো তেহরানে খামেনির মরদেহ রাখা কফিন জনসমক্ষে আনা হয়। এ সময় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও বিদেশি নেতারা তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে টানা সাত দিন ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও শোকযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। মেহেরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ বিদায়ের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

শনিবার ও রবিবার তেহরানে সাধারণ মানুষের জন্য রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং তার পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন।
ইরানি কর্তৃপক্ষের আশা, প্রায় সাড়ে তিন দশক দেশটির নেতৃত্বে থাকা খামেনির শেষ বিদায়ে তেহরানে দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই বহু মানুষ গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে অবস্থান নেন। শনিবার ভোর ৬টা থেকে অনুষ্ঠানস্থলের মূল ফটক জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হলে সেখানে জনস্রোত নেমে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৮৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজার পর এটি ইরানের সবচেয়ে বড় শোকসমাবেশ হতে যাচ্ছে। সে সময় খোমেনির শেষকৃত্যে প্রায় এক কোটি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।
সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী সোমবার (৬ জুলাই) খামেনির শোকযাত্রা ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কোম শহরের উদ্দেশে রওনা হবে এবং মঙ্গলবারও (৭ জুলাই) সেখানে কর্মসূচি চলবে। বুধবার (৮ জুলাই) তার মরদেহ ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেওয়া হবে। পরে নাজাফ থেকে কারবালা পর্যন্ত শোকযাত্রার আয়োজন করা হবে, যেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এরপর মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদ শহরে অবস্থিত ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হবে।
শুক্রবার তেহরানে আয়োজিত শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। এছাড়া সৌদি আরব, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান, জর্জিয়া, আর্মেনিয়া, তুরস্ক, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনের হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।



































