জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বিশ্বকে বাংলাদেশের আহ্বান
- সর্বশেষ আপডেট ১০:২৪:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
- / 27
বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় উন্নত বিশ্বকে জলবায়ু তহবিল বৃদ্ধি এবং দ্রুত প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। উন্নয়নশীল ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য বাৎসরিক ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়নের যে বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, তা বর্তমান বাস্তবতায় জলবায়ুর ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে মোটেও পর্যাপ্ত নয় বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের ডালিয়ান (তালিয়ান) আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সেশনে তিনি এ কথা বলেন। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (WEF) আয়োজিত ‘সামার দাভোস’ (Summer Davos) সম্মেলনের ‘পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জলবায়ু নেতৃত্ব’ শীর্ষক সেশনে বাংলাদেশ এই শক্ত অবস্থান তুলে ধরে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের পরবর্তী জলবায়ু সম্মেলনকে (COP) সামনে রেখে ধনী দেশগুলোকে তাদের পূর্ব প্রতিশ্রুতি রক্ষা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশ্বনেতাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ দায়ী না হয়েও এর চরম খেসারত দিচ্ছে।
বাংলাদেশের জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা ও রূপরেখা:
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় নিজ সরকারের নেওয়া সুনির্দিষ্ট কিছু পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে রয়েছে:
জলাশয় সংস্কার: আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন এবং পুনঃখনন করা হবে।
নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনা: দেশের দুই প্রধান অববাহিকা—পদ্মা ও তিস্তা নদীর পানি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন।
বনায়ন: জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষায় দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।
সবুজ শিল্প ও জ্বালানি: পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়নের অংশ হিসেবে দেশের ঐতিহাসিক পাটশিল্পের আধুনিকায়ন এবং দূষণমুক্ত ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV) চালু করা। একই সঙ্গে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির (Renewable Energy) ব্যবহার দ্রুত ২০ শতাংশে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা।
বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নিজস্ব অর্থায়নে বাংলাদেশ জলবায়ু অভিযোজন বা টেকসই অবকাঠামো তৈরিতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে উন্নত রাষ্ট্রগুলোর আর্থিক সংহতি এবং কার্যকর সবুজ বিনিয়োগ ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।

































