জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নে সরকারের ‘নীরবতা’ ও দ্বিধা দেখছে সুজন
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪১:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
- / 161
জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সরকারের জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে অবস্থানকে ঘিরে এক ধরনের ‘জড়তা’ ও ‘অবজ্ঞার ইঙ্গিত’ দেখতে পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছে।
তাদের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাইয়ের চেতনার প্রতি শ্রদ্ধা জানালেও বাস্তব পদক্ষেপে স্পষ্ট অগ্রগতি নেই—বরং ক্ষেত্রবিশেষে নীরবতা ও অনাগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
রোববার অনুষ্ঠিত ‘বর্তমান সরকারের চার মাস: প্রত্যাশা, অর্জন ও করণীয়’ শীর্ষক এই আলোচনার আয়োজন করে সুজন। সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। বৈঠকে সুজনের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত প্রবন্ধে বলা হয়, সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বভিত্তিক উচ্চকক্ষ গঠন বা জাতীয় সাংবিধানিক পরিষদ (এনসিসি) প্রতিষ্ঠার মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রশ্নে সরকারের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।
প্রবন্ধে আরও প্রশ্ন তোলা হয়—সরকার কি জুলাই সনদের রাজনৈতিক ও নৈতিক গুরুত্ব স্বীকার করেছে, কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরি করেছে, নাকি পুরোনো রাজনৈতিক ধারা পুনরাবৃত্তি করছে। এসব প্রশ্নের উত্তর না থাকাকে উদ্বেগজনক বলেও উল্লেখ করা হয়।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, অতীত শাসনব্যবস্থায় জনগণের ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণের শিকার হয়। তাঁর মতে, গণ-অভ্যুত্থান সেই বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে আসার একটি প্রয়াস, যার লক্ষ্য ছিল কাঠামোগত পরিবর্তন।
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য হলো পুরোনো পথে ফিরে না যাওয়া। তাঁর ভাষায়, পথ বদল না করলে গন্তব্যও বদলায় না—এটি রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি কঠিন সত্য।
বৈঠকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, অধ্যাপক সাজ্জাদ সিদ্দিকী, অধ্যাপক এ কে এম ওয়ারেসুল করিম এবং তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা ফাহিম মাশরুরসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
সুজনের মতে, সরকারের বর্তমান পারফরম্যান্স বিচার করতে হলে তিনটি প্রশ্ন জরুরি—জুলাই সনদের স্বীকৃতি, বাস্তবায়ন কাঠামো এবং নীতিগত সামঞ্জস্য। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে বলেই তাদের মূল্যায়ন।






























