চীনে প্রথম বিদেশি অফিস খুলছে বিডা
- সর্বশেষ আপডেট ১১:২৪:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
- / 20
বাংলাদেশি অর্থনীতিতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের গতি বাড়াতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। খুব শিগগিরই দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিডার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বহির্বিশ্বে প্রথম অফিস চালু করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। তিনি জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীনে এই বিশেষ কার্যালয়টি স্থাপনের চূড়ান্ত পরিকল্পনা রয়েছে।
সম্প্রতি চীনে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ‘চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপো’ পরিদর্শনে গিয়ে এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নিয়ে আশিক চৌধুরী বাংলাদেশের এই নতুন কৌশলগত সিদ্ধান্তের কথা জানান। আন্তর্জাতিক স্তরের এই বিশেষ উদ্যোগের খবরটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিশ্ব দরবারে প্রকাশ করেছে চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিজিটিএন (CGTN)।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, চীনের মাটিতে এই কার্যালয়টি স্থাপিত হলে চীনা মূলধারার বড় বড় বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে পুঁজি বিনিয়োগের যাবতীয় আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনেক বেশি সহজ, স্বচ্ছ এবং দ্রুততর হবে। এর ফলে দুই দেশের বাণিজ্য সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন, তথ্য সংগ্রহ এবং বাংলাদেশে শিল্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথ অনেক বেশি মসৃণ ও সুবিধাজনক হবে।
তিনি তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, বিগত পাঁচ বছরের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশে আসা বিদেশি বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় এবং নির্ভরযোগ্য উৎসগুলোর একটি হয়ে উঠেছে চীন। এই অপরিসীম গুরুত্ব বিবেচনা করেই বিডা চীনা বড় বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষভাবে আলাদা বা কাস্টমাইজড সেবা কাঠামো গড়ে তুলেছে এবং তাদের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে পৃথকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
আশিক চৌধুরী জানান, চীনা ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে গত বছরের শেষ দিকেই ঢাকার বিডা কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ ‘চায়না ডেস্ক’ সফলভাবে চালু করা হয়েছে। এই ডেস্কে নিয়োজিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা মূলত শুধুমাত্র চীনা ভাষাভাষী বিনিয়োগকারীদের সার্বিক আইনি সহায়তা ও ব্যবসায়িক পরামর্শ প্রদানের কাজ করছেন। চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা ও ডেডিকেটেড ‘ফোকাসড সাপোর্ট’ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই বিশেষ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বহুল আলোচিত ‘১৮০ দিনের সংস্কার কর্মসূচি’র একটি বিশেষ অংশ হিসেবে বিডার এই বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত মার্চ মাসেই বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেছিলেন, চীনের মাটিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উপস্থিতি আরও বেশি দৃশ্যমান করা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক উদ্বেগ দ্রুত সমাধান করার দারুণ সুযোগ তৈরি করবে এই প্রস্তাবিত কার্যালয়।
তখন তিনি আশা প্রকাশ করে বলেছিলেন যে, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই চীনের এই কার্যালয়টির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে, যার ধারাবাহিকতায় এখন তিন মাসের আলটিমেটাম এসেছে। এর মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) দেশের বাইরে নিজেদের একটি স্বতন্ত্র অফিস স্থাপনের প্রথম ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে। মূল ভূখণ্ড চীনের বিশাল বিনিয়োগের একটি বড় অংশ বাংলাদেশে আকৃষ্ট করা এবং বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা একদম উৎস পর্যায়েই (Root Level) সমাধান করাই এই বৈদেশিক উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
এদিকে, চীনে অফিস খোলার এই বিশাল উদ্যোগকে সামনে রেখে দেশের অভ্যন্তরে অবকাঠামো খাতে বিডার পক্ষ থেকে মোট ১৩টি বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্প সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণাধীন ‘চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল’ (চাইনিজ ইকোনমিক জোন) বাস্তবায়নের কাজকে বিডার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিডার নীতিনির্ধারকদের ধারণা, এই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি সফলভাবে পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগের পরিমাণ আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।
বিডার সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যবর্তী সময়ে বাংলাদেশে বেসরকারি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (FDI) ক্ষেত্রে প্রথম অবস্থানে থাকা সৌদি আরবের পরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে চীন। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শুধুমাত্র মূল ভূখণ্ড চীন থেকে বাংলাদেশে ৪ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং হংকংয়ের মাধ্যমে আরও ১৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপুল বৈদেশিক বিনিয়োগ এসেছে।


































