২ হাজার সৌরচালিত হিমাগার করবে সরকার
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৫৩:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
- / 12
দেশের প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে সারাদেশে দুই হাজার সৌরবিদ্যুৎচালিত ক্ষুদ্র হিমাগার স্থাপন করা হবে, যা কৃষকের ঘরের কাছাকাছি থেকেই ব্যবহার করা যাবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, ফসল নষ্ট হওয়া কমানো এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সোমবার রাজধানীর বনানীতে বিশ্বব্যাংকের একটি কৃষি বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বর্তমানে বড় হিমাগারগুলো জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে অবস্থিত হওয়ায় অনেক সময়ই প্রান্তিক কৃষক সেখানে সহজে পৌঁছাতে পারেন না। পরিবহন খরচ ও সময়ের কারণে তাদের ক্ষতিও বাড়ে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই মাঠের কাছাকাছি ছোট আকারের হিমাগার তৈরির সিদ্ধান্ত এসেছে।
প্রস্তাবিত প্রতিটি হিমাগার চালানো হবে সৌরবিদ্যুতে। স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকদের নিয়ে ২০ সদস্যের কমিটি থাকবে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক পর্যায়ে এ ধরনের কয়েকটি ইউনিট ইতোমধ্যে সফলভাবে কাজ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৪০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং ফসলের অপচয় অনেকটাই কমে আসবে।
অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১০ সালের পর থেকে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির গতি কিছুটা মন্থর হয়েছে। সংস্থাটি মনে করে, অতিরিক্ত সারের ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।
বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেম বলেন, কৃষি খাতের বাজেটের বড় অংশ এখনো সার ভর্তুকিতে ব্যয় হচ্ছে, যার সুবিধা সব ক্ষেত্রে সমানভাবে পৌঁছায় না। এতে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন, বিশেষ করে আধুনিক সেচ ও গবেষণা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
একই অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী জানান, পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার লক্ষ্যে কাজ চলছে। পাশাপাশি সেচের নলকূপগুলো সৌরবিদ্যুতে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা মৌসুম শেষে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহেও ভূমিকা রাখতে পারে। মাটির অম্লতা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রাসায়নিক সারের ব্যবহার ২৭ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
সানেম ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ প্রতিবেদনে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের প্রবণতার কথাও উঠে আসে। সেখানে বলা হয়, মানুষের খাদ্যতালিকায় এখন চালের পাশাপাশি ফলমূল, শাকসবজি ও প্রোটিনজাত খাবারের চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন, বিদ্যমান ভর্তুকি কাঠামো কৃষির বহুমুখীকরণ ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে পুরোপুরি সহায়ক নাও হতে পারে।

































