প্রতিবন্ধী খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি ১৪ সংগঠনের
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:১৯:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
- / 47
বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৯ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দকৃত সুযোগ-সুবিধার ওপর যৌথ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনসহ ১৪টি প্রতিবন্ধী বক্তিদের সংস্থা-বি-স্ক্যান, উইমেন উইথ ডিজএ্যাবিলিটিজ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, ডিজএ্যাবল্ড চাইল্ড ফাউন্ডেশন, ডিজএ্যাবল্ড ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, সোসাইটি অব দ্যা ডেফ অ্যান্ড সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ইউজার্স, ব্লাইন্ড এডুকেশন এ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ট্রাস্ট, সাতারকুল প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থা, প্রতিবন্ধী নারীদের জাতীয় পরিষদ, সেন্টার ফর সার্ভিসেস এন্ড ইনফরমেশন অন ডিজাবিলিটি, ভিজ্যুয়ালি ইম্পায়ার্ড পিপলস সোসাইটি, ডিজএ্যাবল্ড ডিফারেন্ট প্রোগ্রাম এবং ডিজাবিলিটি রাইটস এডভোকেসি ফান্ড।
রোববার (১৪ জুন) আয়োজিত এক যৌথ প্রতিক্রিয়া সভায় সংগঠনগুলো উল্লেখ করে যে, নতুন বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা ও উপবৃত্তি কিছুটা বৃদ্ধি করা হলেও, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে তা অত্যন্ত অপ্রতুল। যৌথ প্রতিক্রিয়া সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন এর নির্বাহী পরিচালক আলবার্ট মোল্লা এবং উইমেন উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এর নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার মিষ্টি। বক্তারা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রতিবন্ধী ভাতা ৯০০ টাকা থেকে ১,০০০ টাকা করা, উপকারভোগীর সংখ্যা ৩৪.৫ লাখ থেকে বৃদ্ধি করে ৩৮ লাখে উন্নীত করা, শিক্ষা উপবৃত্তির উপকারভেগীর সংখ্যা ও মাসিক উপবৃত্তির পরিমাণ বৃদ্ধি এবং ১৫টি সহায়ক উপকরণের আমদানি অগ্রিম আয়কর ২% থেকে কমিয়ে ১% করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান । তবে একই সাথে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবন্ধী খাতে মোট বরাদ্দ ৪ হাজার ৯৭২.৫৬ কোটি টাকা, যা সামাজিক নিরাপত্তা খাতের মাত্র ৩.৪৫% এবং মোট জাতীয় বাজেটের মাত্র ০.৫৩% ।
বাজেট পুনর্বিবেচনার জন্য ১৪টি সংগঠনের প্রধান দাবিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
নির্বাচনী ইশতেহারকে বিবেচনায় এনে বাজেট বরাদ্দ: ইশতেহারে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ ছিল-কর্মসংস্থানে যুক্ত করতে ন্যাশনাল সিভিক সার্ভিস চালু করা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে বিশেষ তহবিল গঠন, জুলাই বিপ্লবে প্রতিবন্ধিতার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের চিকিৎসা, স্থায়ী কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসন। বাজেটে এগুলোর প্রতিফলন ঘটানো।
ভাতা বৃদ্ধি: তীব্র মাত্রার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য মাসিক ভাতা কমপক্ষে ৫ হাজার টাকা এবং মাঝারি মাত্রার প্রতিবন্ধীদের জন্য ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা।
কেয়ারগিভার ভাতা: অতি গুরুতর মাত্রার প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সার্বক্ষণিক কেয়ারগিভারের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা হারে নতুন ভাতা কার্যক্রম চালু করা।
শতভাগ উপবৃত্তি ও প্রতিবন্ধী ভাতা: দেশের শতভাগ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে শিক্ষা উপবৃত্তির আওতায় আনা এবং উপবৃত্তির পাশাপাশি তাদের প্রতিবন্ধী ভাতাও প্রদান করা।
মন্ত্রণালয় ভিত্তিক বরাদ্দ: সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ছাড়াও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যুব ও ক্রীড়া, শ্রম এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখা।
কর্মসংস্থান: প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া।
কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও সহায়ক উপকরণ: সরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন ধরণের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাহিদা মোতাবেক কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও সহায়ক উপকরণ উৎপাদনের জন্য বাজেট বরাদ্দ রাখা।
অগ্রাধিকার প্রদান: ডিজিটাল হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী কৃষক ও নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনে বরাদ্দ: স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে এসকল কাজ করছে যাদের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে কর্মসূচী গ্রহণ করতে বাজেট বরাদ্দ রাখার দাবি জানাচ্ছি।
আইন বাস্তবায়নে বরাদ্দ: বাজেটে প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক জাতীয় আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য বাজেট বরাদ্দ দেওয়া।
সংগঠনগুলো জোর দিয়ে বলে যে, বাজেট প্রণয়নের পূর্বে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বা তাদের সংগঠনের প্রতিনিধিদের সাথে কোনো আলোচনা করা হয়নি। তারা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে না দেখে অধিকারের জায়গা থেকে দেখার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান এবং চলমান সংসদ অধিবেশনেই এই বাজেট পুনর্বিবেচনার জোর দাবি জানান।






































