হরমুজ বন্ধ ঘোষণা ইরানের, মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৫৮:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
- / 12
মধ্যপ্রাচ্যের পরাশক্তি ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক সংঘাত এখন এক নতুন ও বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ধারাবাহিক বিমান হামলার জবাবে এবার বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিগুলোতে শক্তিশালী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।
একই সাথে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ধমনী হিসেবে পরিচিত ‘হরমুজ প্রণালি’ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছে তেহরান, যা বিশ্ব বাজারে নতুন এক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে গত বুধবার (১০ জুন) গভীর রাতে ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে দফায় দফায় হামলা চালায় মার্কিন বিমানবাহিনী। মার্কিন সামরিক প্রশাসন এই হামলাকে ইরানের অযৌক্তিক ও অব্যাহত আগ্রাসনের জবাব বলে দাবি করেছে।
এর পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটি, মার্কিন পঞ্চম নৌবহর এবং কুয়েতের আলি আল-সালেম ও আহমাদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিসহ জর্ডানের আজরাক বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে একযোগে ড্রোন হামলা চালায়।
আমেরিকার পক্ষ থেকে গত এপ্রিলে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘনের তীব্র অভিযোগ তুলে আইআরজিসি ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে তেলবাহী ট্যাংকার ও সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজসহ সব ধরনের চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে।
ইতিমধ্যেই এই নিষেধাজ্ঞা বা ‘অবৈধভাবে’ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করার অপরাধে দুটি তেলবাহী জাহাজের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন হামলায় হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, সিরিক ও জাস্ক শহরে ব্যাপক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় কারগান শহরেও বিস্ফোরণে অন্তত দুজন সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন এবং মার্কিন হামলায় দুটি পানির ট্যাংক ও একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তেহরান দাবি করেছে।
মূলত হরমুজ প্রণালির আকাশে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত দুদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী ও পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়। এর আগে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাতের কয়েক দিনের মাথায় নতুন করে যুক্ত হওয়া এই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা উপসাগরীয় অঞ্চলকে ব্যাপকভাবে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ (২০ শতাংশ) এই কৌশলগত হরমুজ প্রণালি সমুদ্রপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়ে থাকে। সংঘাতের শুরুর দিকে ইরান সাময়িকভাবে এই পথ বন্ধ করলেও পরে নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করেছিল। তবে সম্প্রতি ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন প্রশাসন নতুন করে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের পর আবারও এই কঠোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করল তেহরান, যার ফলে বিশ্বজুড়ে তেল ও খাদ্যের বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।






































